ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ কাজে নিম্নমানের ইট এবং খোয়া ব্যবহার করাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ করার পরও কোনো কাজ না হওয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
তবে অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে ঠিকাদারের পক্ষে সাফাই গেয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মেহেদি হাসান বলেছেন, কাজ করতে গিয়ে মিস্ত্রির অদক্ষতার কারণে একটু আধটু এদিক সেদিক হতেই পারে। এতে ধরার কিছু নেই।
পীরগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় পীরগঞ্জ উপজেলার জসাইপাড়া, নিয়ামতপুর, কিং দলপতিপুর, ঘুঘুয়া এবং দলপতিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বছর প্রায় ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি করে দ্বিতল ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লকে থাকবে ছাত্রছাত্রীদের জন্য ২টি হাত ধোয়ার বেসিন, দুইটি বাথরুম, ২টি কমোড, আলাদা ৪টি প্রস্রাবখানা। এছাড়াও থাকবে বিদ্যুৎচালিত পাম্প ও পানির ট্যাংকি। কিন্তু ওই ৫টি বিদ্যালয়ের নিচতলা ও ওপরতলার সঙ্গে কানেক্টিং না করে আলাদা করে ওয়াশ ব্লক নির্মাণ করা হচ্ছে।
ফিরোজ নামে ঠাকুরগাঁওয়ের এক ঠিকাদার ওই ৫টি বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লক নির্মাণকাজ করছেন। এরই মধ্যে জসাইপাড়া এবং নিয়ামতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওয়াশ ব্লকের দ্বিতল ছাদ নির্মাণ শেষে দেয়াল গাঁথুনির কাজ চলছে। ঘুঘুয়া এবং কিং দলপতিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেজ ঢালাইয়ের কাজ চলছে আর একটি বিদ্যালয়ে এখনো কাজ শুরুই করা হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে এরই মধ্যে যে দু’টি বিদ্যালয়ে ছাদ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে তাতে নি¤œমানের ইট ও খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। ছাদে ১০ মি.মি রডের পরিবর্তে কোথাও কোথাও ৬ মি.মি রড দেওয়া হয়েছে। কলামে রড বাইন্ডিংয়ে যে পরিমাণ রিং দেওয়ার কথা তা দেওয়া হয়নি। বালু ও খোয়ার সঙ্গে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম সিমেন্ট মেশানো হয়েছে।
নিয়ামতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিচতলার পশ্চিম পাশে একটি কলাম বাঁকা করে ওপরে ওঠানো হয়েছে। জসাইপাড়ায় যে মাপের কলাম দেওয়ার কথা তার চেয়ে কম মাপের দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যে মাপের সেপটিক ট্যাংক করার কথা দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থে তা কম করা হয়েছে। এসব কাজে কিছু কিছু ইট এতই খারাপ যে, আঙুল দিয়ে ডলা দিলে ঝুরঝুর করে ইটের অংশ খসে পড়ছে।
গত সোমবার দুপুরে কথা হলে ঠিকাদার ফিরোজ আলম বলেন, কোনো সমস্যা নেই। নিয়ম মেনেই কাজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
পীরগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকতা মেহেদি হাসান বলেন, ঠিকাদার ভালো কাজ করছেন। হাজার হাজার ইটের মধ্যে কিছু তো খারাপ থাকবেই।
পীরগঞ্জ উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার নির্মল কুমার গোস্বামী জানান, কাজ খারাপ হচ্ছে এমন অভিযোগ তিনি পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে।
