টেকনাফে পৃথক ঘটনায় ৩ শিশুর মৃত্যু

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:০৬ পিএম

কক্সবাজারের টেকনাফে পৃথক ঘটনায় তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় কয়েকটি পরিবারের ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশু আহত হয়েছেন।

গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহতরা হল- টেকনাফ উপজেলা পরিষদের পশ্চিমে পুরাতন পল্লান পাড়ার রবিউল আলমেরে ছেলে মেহেদী হাসান (১০), মো. আলমের মেয়ে আলিফা (৫) ও নতুন পল্লান পাড়ার আব্দুল গফুরের ছেলে আবু হারেস (১০)।

মঙ্গলবার ভোরে পৃথক পাহাড় ধস ও পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে শিশুদের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনার খবর পেয়ে প্রথমে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) সদস্যরা ঘটনাস্থল হতে নিহতদের উদ্ধার করে টেকনাফ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

পরে ফায়ার সার্ভিস, স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা মাটি চাপা পড়ে আহত অন্যান্যদের উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। এ ছাড়া মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে বাবার সামনেই পানির স্রোতে হারিয়ে যায় ১০ বছরের শিশু আবু হারেস। বাবা আব্দুল গফুরের হাত ধরে রাস্তায় বের হয় আবু হারেস। রাস্তার পাশে পড়ে পানির তোড়ে ভেসে যায় শিশুটি। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও সে আর জীবিত ছিল না।

পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত আহত ১০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ রেড ক্রিসেন্ট অফিসের কর্মকর্তা আব্দুল মতিন।

তিনি জানান, সকালে পাহাড় ধসের খবর পেয়ে সিপিসি সদস্যরা ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ারা হচ্ছেন পুরাতন পল্লান পাড়ার আব্দুস সালামের স্ত্রী হালিমা (৪০), মেয়ে ইসমত আরা (১৮) কলিমা (১৭), আবু শামার ছেলে ফজলু (২৯), জাফর আলমের স্ত্রী রহিমা খাতুন (২৫), মেয়ে শারমিন (৭), নাছিমা আকতার, নিহত মেহেদী হাসানের মা এলেম বাহার (২৩), ভাই সাইফুল (৬), মোহাম্মুদ হাসান।

এদের মধ্যে গুরুতর বেশ কয়েকজনকে কক্সবাজার জেলা সদরে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান বলেন, উপজেলা পরিষদের পেছনের পাহাড় ধসে ২ শিশু এবং পানির ঢলে অপর ১ শিশু নিহত হয়েছে।

পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরতদের ইতোমধ্যে মাইকিং করে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে টেকনাফের নয়াপাড়া শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড় ধসে ৩টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

কয়েকদিন ধরে টেকনাফে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর জের ধরে টেকনাফের উচু জায়গা ছাড়া সর্বত্র পানির ঢল প্রবাহিত হতে থাকে। বিভিন্ন রাস্তা, পথ, টেকনাফ সরকারি ডিগ্রী কলেজ, নতুন পল্লান পাড়া মানারুল ফোরকান মাদ্রাসাসহ অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকা পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।

ফলে এসব এলাকায় হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

টেকনাফ সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গুরা মিয়া বলেন, তিনিসহ নতুন পল্লান পাড়া এলাকার শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহামুদ আলী বলেন, অতি বৃষ্টির কারণে তার এলাকার রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নুরুল আলম ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।

ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে সাহায্য সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।

টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ তিন শিশুর মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত