বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যার নতুন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে হত্যা মামলার স্বাক্ষী থেকে আসামি বনে যাওয়া আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে একাই রিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
যদিও রিফাত হত্যার পর মিন্নি হাসপাতালে না গিয়ে বাসায় ফিরে যান বলে তখন অভিযোগ ওঠে।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বসানো একটি সিসি ক্যামেরার ওই ভিডিওতে দেখা যায়, রিফাত শরীফের ওপর হামলার পর সকাল ১০টা ২১ মিনিটের সময় মিন্নি একাই একটি রিকশায় গুরুতর জখম হওয়া অচেতন রিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
এরপর ওই রিকশাচালকের ডাকে হাসপাতালের সামনে থাকা লোকজনের মধ্যে মামুন নামে একজন রক্তাক্ত ও অচেতন রিফাত শরীফকে বহন করা রিকশার দিকে দৌড়ে আসেন। এরপর তিনি দৌড়ে হাসপাতালের ভিতরে গিয়ে একটি স্ট্রেচার নিয়ে ফের রিকশার পাশে আসেন। এরপর সেখানে এগিয়ে আসেন অনেকেই। অচেতন রিফাত শরীফকে স্ট্রেচারে করে হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ ভিডিও বিষয়ে মোজ্জাম্মেল হোসেন কিশোর গণমাধ্যমকে বলেন, এ ভিডিও প্রমাণ করে তার মেয়ে নির্দোশ। তিনি এ ভিডিও এতদিন লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন।
আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ৪৮ দিন কারাভোগের পর ৪ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পান। উচ্চ আদালতের জামিন নিয়ে বরগুনা জেলা কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন তিনি।
২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে বহু পথচারীর উপস্থিতিতে রিফাত শরীফকে তার স্ত্রী মিন্নির সামনে রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে একদল যুবক। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে ওইদিন বিকেলেই তার মৃত্যু হয়।
দেশজুড়ে আলোচিত এই হত্যার ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ক্লিপে স্বামীকে বাঁচাতে প্রাণপণ চেষ্টা করতে দেখা যায় মিন্নিকে।
রিফাত হত্যার পরদিন ২৭ জুন তার বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা থানায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন। এতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকে। কিন্তু মামলা দায়েরের ১৮ দিন পর গত ১৩ জুলাই এই হত্যাকাণ্ডে মিন্নি জড়িত- এমন দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেন তার শ্বশুর দুলাল শরীফ।
এর পরই মামলার তদন্তে নাটকীয় মোড় নেয়। সংবাদ সম্মেলনের পরদিন মিন্নির গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশও করা হয়।
ওই সমাবেশে দুলাল শরীফ ছাড়াও স্থানীয় সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক সুনাম দেবনাথ মিন্নির গ্রেপ্তার দাবি করে বক্তব্য দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৬ জুলাই জিজ্ঞাসাবাদের নামে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মিন্নিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর পর থেকেই কারাগারে ছিলেন তিনি।
কয়েক দফা আবেদন জানালেও নিম্ন আদালতে জামিন মিলছিল না মিন্নির।
