ভিন্দালু ভিসায় বাংলাদেশিদের জন্য খুলবে ব্রিটেনের দ্বার

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:১৭ এএম

ব্রেক্সিটের অস্থির সময়ে এক সপ্তাহে ব্রিটেন সরকারের দুটি ঘোষণা বাংলাদেশের অভিবাসী প্রত্যাশীদের জন্য সুখবরের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশটিতে বাংলাদেশি ও ভারতীয়দের মালিকানাধীন ১০ হাজারেরও বেশি রেস্টুরেন্টে কর্মী সংকট দূর করতে যুক্তরাজ্য সরকার ‘ভিন্দালু ভিসা’র ঘোষণা করেছে। সুযোগ দেওয়া হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা শেষে দুই বছরের ফুল টাইম পোস্ট স্টাডি ওয়ার্ক ভিসার। এ দুই ঘোষণার পর যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের ভাগ্য খুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

৯ সেপ্টেম্বর ব্রিটেনে বাংলাদেশি কারি শিল্পের স্টাফ সংকট নিরসনে নতুন ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল। ভিন্দালু ভিসা নামে প্রস্তাবিত এ ওয়ার্ক পারমিট ভিসাতে বর্তমানে চালু থাকা বহু শর্ত সহজ ও শিথিলের প্রস্তাব দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পর ব্রিটেনে নতুন পয়েন্টভিত্তিক ভিসা পদ্ধতি চালুর আগে রেস্টুরেন্ট শিল্পে সহজ শর্তে দক্ষ জনশক্তি আনার সুযোগ দেবে ব্রিটিশ সরকার।

তবে এই ভিসার ব্যাপারে এখনো হোম অফিসের কোনো নীতিমালা তৈরি হয়নি বলে জানান কিংডম সলিসিটরের প্রিন্সিপাল ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী। তিনি বলেন, এটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি ঘোষণা মাত্র। এখনো হোম অফিস এটির কোনো নীতিমালা তৈরি করেনি। ব্রেক্সিট ঘিরে সরকারের পতন হলে এ ঘোষণার বাস্তবায়ন সম্ভব নাও হতে পারে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দক্ষ শেফ ও কর্মীর অভাবে ব্রিটেনে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বহু রেস্টুরেন্ট। এসব রেস্টুরেন্টের শতকরা ৯৫ শতাংশই বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন আর কর্মীরাও শতভাগ বাংলাদেশি। নতুন ভিসা ব্যবস্থা নিয়ে নিজের প্রস্তাবনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল বলেন, নতুন ভিন্দালু ভিসায় সাধারণ ওয়ার্ক পারমিটের ক্ষেত্রে চালু থাকা ৩৫ হাজার ৮০০ পাউন্ডের আয়সীমার শর্ত পূরণ করার প্রয়োজন পড়বে না। ফলে এটি কার্যকর হলে দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনে জনশক্তি আসার পথ নতুন করে উন্মুক্ত হবে বলে ধারণা করছেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, বিভিন্ন ক্যাটারার্স সংগঠনের নেতারা।

ব্রিটেনে বাংলাদেশি কারি শিল্পের বৃহত্তম সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএ) সভাপতি এমএ মুনিম বলেন, ‘ভিন্দালু ভিসা চালুর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এর ফলে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি ব্রিটেনে আসার সুযোগ তৈরি হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। বিসিএ এরকম একটি প্রক্রিয়া চালুর জন্য দীর্ঘদিন ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে লবিং করে আসছে। এদিকে বিদেশি শিক্ষার্থী আকর্ষণে আবারও নিয়ম শিথিল করেছে যুক্তরাজ্য। নতুন নিয়ম অনুযায়ী পড়াশোনা শেষে দুই বছর যুক্তরাজ্যে অবস্থান করতে পারবেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের কর্মসংস্থানের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে না। অর্থাৎ যেকোনো ধরনের ফুলটাইম চাকরি বা ব্যবসায় যুক্ত হতে পারবেন তারা। এ ঘোষণায় বাংলাদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীরা আবারও ব্রিটেনে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হবেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর দেশটির অভিবাসন বিভাগ এ নতুন নিয়ম ঘোষণা করে। স্নাতক বা স্নাতকোত্তর কোর্স সম্পন্নকারী বিদেশি শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবেন। ২০২০ সালের শুরু থেকে এ নিয়ম কার্যকর হবে। দুই বছরের কাজের সুযোগ নিতে হলে অভিবাসনের নিয়মকানুন যথাযথভাবে মেনে চলে, এমন প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়াশোনা করতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত