নুরুল ইসলাম নামে এক শ্রমিক নেতা হত্যা মামলার এজাহার বদলে দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহীর পুঠিয়া থানার ওসি শাকিল উদ্দিন আহমেদ বাপ্পীর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ৪৫ দিনের মধ্যে রাজশাহীর চিফ জুডিশিয়ার ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে তদন্ত শেষ করে হাইকোর্টে এই প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার এ আদেশ দিয়েছে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চ। একইসঙ্গে ওসি বাপ্পীকে কেন সাময়িক বরখাস্ত করা হবে না এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েও রুল জারি করেছে আদালত।
আদালতে রিট আবেদনটির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, গত ১১ জুন পুঠিয়ার কাঁঠালবাড়িয়া এলাকায় একটি ইটভাটা থেকে পুঠিয়া উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ১৮ জুন পুলিশ জানায়, নুরুল ইসলাম সমকামী ছিলেন। সমকামিতার জের ধরে এলাকার এক কিশোর গত ১০ জুন রাতে তাকে ইটের আঘাতে হত্যা করে। ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার এবং আদালতে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার কথা জানায় পুলিশ।
তবে নিহতের পরিবার বিষয়টিকে ভিত্তিহীন দাবি করে জানায়, গত ২৪ এপ্রিল উপজেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনে নুরুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে পুঠিয়া থানার ওসি শাকিল আহমেদ বাপ্পী ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রভাবিত করে তাকে পরাজিত করান। ওই ফলাফলের বিরুদ্ধে নুরুল ইসলামসহ পরাজিত তিন প্রার্থী আটজনের বিরুদ্ধে স্থানীয় আদালতে মামলা করেন। শুনানি নিয়ে আদালত শ্রমিক ইউনিয়নের সব কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নুরুল ইসলাম যে রাতে খুন হন সেদিন আদালতের জারিকারক মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে গিয়ে এ নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অবহিত করেন। এ সময় নুরুল ইসলামও সেখানে ছিলেন। একপর্যায়ে অন্য পক্ষের সঙ্গে তার বাগ্বিত-া হয়। এরপর রাত সাড়ে ৮টা থেকে নুরুল ইসলামের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরদিন ইটভাটায় তার মরদেহ পাওয়া যায়।
আইনজীবীরা জানান, নুরুল ইসলামের মৃত্যুর ঘটনায় তার মেয়ে নিগার সুলাতানা পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে পুঠিয়া থানায় হত্যা মামলার এজাহার দায়ের করলে ওসি বাপ্পী সেটি সংশোধন করতে বলেন। বাদী তখন ওই পাঁচজনের নাম ‘সন্দেহভাজন’ আসামি হিসেবে এজাহারে উল্লেখ করেন। কিন্তু পরে নুরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, ওসি বাপ্পী নিগার সুলতানার এজাহার মামলা হিসেবে রেকর্ড করেননি।
পরিবারের দাবি ওসি বাপ্পী নিগার সুলতানার কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে ওই সাদা কাগজটিকে মামলার এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর এ নিয়ে বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে গত ৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন নুরুল ইসলামের মেয়ে নিগার সুলতানা।
