বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পেঁয়াজ রপ্তানিকারক দেশ ভারত সর্বনিম্ন রপ্তানিমূল্য বাড়ানোর কারণে বাংলাদেশের মতোই অন্য আমদানিকারক দেশগুলো বিকল্প বাজার থেকে পেঁয়াজ আমদানির দিকে ঝুঁকছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারেও পেঁয়াজের দর এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাড়ার তথ্য উঠে এসেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে। এক সপ্তাহ আগে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি টন পেঁয়াজের মূল্য ছিল ৩৮৪ দশমিক ৫১ ডলার। গতকাল তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৩২ দশমিক ৮৬ ডলারে।
গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া ট্যারিফ কমিশনের প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক বাজারে পেঁয়াজের দর আরও বাড়ার আশঙ্কা করে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু ভারতে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে, তাই স্বভাবত কারণেই বাংলাদেশের আমদানিকারকরা বিকল্প বাজার খোঁজার চেষ্টা করবেন। বিকল্প বাজার হিসেবে মিয়ানমার, চীন, পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্ক ইত্যাদি বাজার আমাদের দেশের আমদানিকারকদের পছন্দের তালিকায় চলে আসে। উল্লেখ্য, যে, ভারতে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানিকারক দেশগুলোর আমদানির চাপ এসব দেশে পড়ায় এ দেশগুলোতেও পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা যায়। তাই এসব দেশ থেকে আমদানিকারকদের পেঁয়াজ আমদানির জন্য সরকার উৎসাহিত করতে পারে।’
এতে বলা হয়েছে, পেঁয়াজ আমদানির বিকল্প উৎস মিয়ানমার, পাকিস্তান, মিসর, চীন ও তুরস্কের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করে আমদানিকারকদের সহায়তা করা যেতে পারে।
বিভিন্ন দেশে পেঁয়াজের বাজারদর বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বর্তমানে সবচেয়ে কম দাম চীনা পেঁয়াজের। দেশটিতে উৎপাদিত পেঁয়াজের খুচরা বাজারে দাম বাংলাদেশের টাকায় প্রতিকেজি ২৭ থেকে ৪৩ টাকা, তুরস্কের পেঁয়াজ ২৯ থেকে ৪০ টাকা, মিয়ানমারের পেঁয়াজ ৩৩ থেকে ৪৮ টাকা ও ভারতের পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। চীনের পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম ২৬ টাকা থেকে ৪২ টাকা ৫০ পয়সা, তুরস্কের পেঁয়াজ ২৬ টাকা ৩৮ দশমিক ২৫ টাকা, মিয়ানমারে ২৬ থেকে ৪১ টাকা ও ভারতের পাইকারি বাজার দর ৩৪ থেকে ৪৩ টাকা।
দামে কম হলেও পচনশীল হওয়ায় বাংলাদেশের আমদানিকারকরা ভারত ছাড়া দূরের দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে আগ্রহী হন না। এর কারণ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দীর্ঘ জাহাজপথে অনেক ক্ষেত্রে পেঁয়াজ পচে যায়, এলসি (ঋণপত্র) খোলার পর দেশে পেঁয়াজ পৌঁছানোর আগেই পেঁয়াজের দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনার কারণে ব্যবসায়ীরা দূরের দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানিতে আগ্রহী হন না।
ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে পেঁয়াজ রপ্তানির বাজারে বড় হিস্যা নেদারল্যান্ডসের। দেশটি বিশ্ব পেঁয়াজ বাণিজ্যের ১৯ দশমিক ১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চীনের হিস্যা ১৪ দশমিক ৪ শতাংশ। পরের অবস্থানেই রয়েছে ভারত। দেশটি আন্তর্জাতিক বাজারের ১১ দশমিক ৯ শতাংশ পেঁয়াজ সরবরাহ করে। পেঁয়াজ রপ্তানিকারক অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, ইরান, মিসর, পোল্যান্ড, ফ্রান্স, পেরু, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, কানাডা, জার্মানি, তুরস্ক ও মিয়ানমার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশে পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে ২৩ লাখ ৩০ হাজার টন। ওই সময় ১০ লাখ ৯২ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে বলে উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে। বাংলাদেশের আমদানি করা পেঁয়াজের প্রায় পুরোটাই ভারত থেকে আসছে।
ট্যারিফ কমিশন বলছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৯ লাখ ৫৩ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ আমদানি হয়েছে ভারত থেকে। দশমিক ৩৭ শতাংশ এসেছে মিসর থেকে। আর শূন্য দশমিক ২ শতাংশ আমদানি করা হয়েছে চীন থেকে।
