ফেনীর সোনাগাজীতে প্রতিপক্ষের হামলার শিকার বিধবা মামলা করতে গিয়ে রহিমা সুন্দরী (৪০) নামে এক নারী প্রতারকের খপ্পরে পড়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে মামলা হলে পুলিশ সঞ্জু শিকদার (৩৫) ও নারী প্রতারক রহিমা সুন্দরীকে (৪০) গ্রেপ্তার করে। আটকদের বুধবার সকালে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
সোনাগাজী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরগণেশ গ্রামের কলেজ রোডের মাঝি বাড়ির খোকন মিয়ার বাড়িতে রহিমা সুন্দরীর ভাড়া বাসায় রোববার গভীর রাতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে সঞ্জু শিকদার, রহিমা সুন্দরী ও আফলাছ হোসেনসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে ও আরো তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, রবিবার গভীর রাতে সঞ্জু শিকদার, আফলাছসহ পাঁচ-ছয় যুবক রহিমা সুন্দরীর সহযোগিতায় তার ঘরে ঢুকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের একপর্যায়ে ওই নারী অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তারা স্বর্ণের আংটি, এক জোড়া কানের দুল ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও নির্যাতিত নারী জানান, আমিরাবাদ ইউনিয়নের এক ব্যক্তি ওই নারীকে দত্তক নিয়ে লালন পালন করেন। উপজেলার এক যুবলীগ কর্মীর কাছে ১৪ বছর আগে তাকে বিয়ে দেন। তিন বছর আগে আধিপত্যের জেরে সন্ত্রাসীরা ওই নারীর স্বামীকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর তিনি ১৩ ও সাত বছর বয়সের দুই সন্তান নিয়ে পালক বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন।
ওই নারী আরো জানান, নিঃসন্তান পালক বাবা তার নামে বসত বাড়ির জমি দানের প্রস্তাব করেন। এ খবর জানাজানি হলে তার ভাই ও ভাতিজারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। ১০ সেপ্টেম্বর তাকেসহ তার পালক নিঃসন্তান ওই দম্পতিকে ভাই কালা মিয়া ও তার ছেলে মাসুদসহ কয়েকজন পিটিয়ে আহত করে। ওই দিন পালক কন্যা বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় চাচা, চাচি ও চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে সোনাগাজী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। থানার মাঠে দেখা মিলে রহিমা সুন্দরী নামের প্রতারক ওই নারীর। সে নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওই নারীকে তার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে রেখে পুলিশ পাঠিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি বলে এবং তাকে বোন ডাকে।
এরপর রোববার দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে মামলার অভিযোগে জানান ওই নারী।
আটক রহিমা সুন্দরী চরদরবেশ ইউনিয়নের চরসাহাভিকারী গ্রামের ও এক কন্যা সন্তানের জননী। সঞ্জু শিকদার দাগনভূঞা উপজেলার। সে সোনাগাজী পৌরসভার চরগণেশ গ্রামের জনৈক শেখ রেহানার বাড়িতে বসবাস করে আসছিল।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মঈন উদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পাশবিক নির্যাতনের শিকার বিধবাকে মেডিকেল পরীক্ষা জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
