দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে ক্ষমতাসীন দলের নেতা বা এমপি কাউকেই ছাড়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। এ সময় স্বরাষ্ট্র সচিব, পুুলিশের মহাপরিদর্শকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশে মাদকবিরোধী ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার প্রক্রিয়া শুরু থেকেই চলছে। দলের নেতা বা এমপি হোক, কাউকেই ছাড়া হচ্ছে না। কয়েক দিন আগে পুলিশের একজন ডিআইজিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইন ভঙ্গ করলে তাকে আইনের মুখোমুখি দাঁড়াতেই হবে। দলের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চলমান প্রক্রিয়া। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। শৃঙ্খলাভঙ্গের খবর যেখান থেকে আসছে, সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এবার সারা দেশে পূজাম-পের সংখ্যা ৩১ হাজার ১০০টি। আমাদের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ বলেছেন, এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। গত বছরের তুলনায় এবার অন্তত এক হাজার মণ্ডপ বাড়বে। ঢাকা মহানগরীতে গত বছরের তুলনায় ২৩৭টি মণ্ডপ বাড়ছে। মণ্ডপগুলোর আশপাশে পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। যেখানে বিদ্যুৎ আছে সেখানকার মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়া হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ও আর্চওয়ে স্থাপনের জন্যও বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পূজামণ্ডপে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন। দুর্গাপূজায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ও দুষ্কৃতকারীদের অশুভ তৎপরতা রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ জন্য গোয়েন্দা সংস্থাসহ আমরা সবাই সজাগ থাকব। প্রতিটি মণ্ডপে স্থানীয়দের সমন্বয়ে একটি আইন-শৃঙ্খলা কমিটি থাকবে। স্বেচ্ছাসেবকও থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে তারা সমন্বয় করে কাজ করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এবার মণ্ডপে মহিলা স্বেচ্ছাসেবকও থাকবে। স্থানীয় বখাটেরা যেন মণ্ডপে নারীদের উত্ত্যক্ত করতে না পারে সে জন্য সবাই প্রস্তুত থাকবে। জেলা সদর এবং উপজেলা সদরে পুলিশ কন্ট্রোল রুম থাকবে। পাশাপাশি জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ সার্ভিস আরও কার্যকর থাকবে। যেকোনো সমস্যায় এখানে ফোন দিলে সেবা পাওয়া যাবে। মণ্ডপের আশপাশে যানজট এড়াতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
উপকূলীয় এলাকায় প্রতিমা বিসর্জনের সময় কোস্টগার্ড এবং সীমান্তে প্রতিমা বিসর্জনের সময় বিজিবি উপস্থিত থাকবে। পূজা শুরুর আগেই অনেক জায়গায় প্রতিমা ভাঙচুরের খবর এসেছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিমা ভাঙচুরের খবর পেয়েছি। আমি খোঁজ নিয়েছি। মূলত কমিটি বা জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে এবং ভুল বোঝাবুঝিতে এগুলো হয়েছে।
রোহিঙ্গারা পাসপোর্ট পাচ্ছে, সেখানে পুলিশ ভেরিফিকেশন হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের এসব পাসপোর্ট প্রাপ্তির বিষয়ে পুলিশ জড়িত কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পাসপোর্ট প্রক্রিয়ার সঙ্গে শুধু পুলিশ নয়, স্থানীয় চেয়ারম্যান, জন্মসনদ নিবন্ধনকারী, স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার এই তিন জায়গা পার হয়ে চতুর্থ ধাপে আসে পুলিশ ভেরিফিকেশন। কাজেই ওখানে যদি কোনো কিছু হয়ে থাকে, তা হলে পুলিশ একা দায়ী নয়, তবে পুলিশ এ ব্যাপারে তৎপর। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা যখন বাংলাদেশে প্রবেশ করে, তখন আট লাখ রোহিঙ্গাকে বায়োমেট্রিকে নিবন্ধন করা হয়। কিন্তু এরপর আরও তিন লাখ রোহিঙ্গা দেশে ঢুকেছে, তাদের বায়োমেট্রিক হয়নি। তারপরও পাসপোর্ট অফিসের সার্ভার খুবই অত্যাধুনিক। বায়োমেট্রিক না করলেও পাসপোর্ট করতে গিয়ে ধরা পড়ছে রোহিঙ্গারা। এত কিছুর পরও সুচতুরভাবে কেউ কেউ অবৈধভাবে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দিচ্ছে, তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। যেকোনো অনিয়মের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
