জিজ্ঞাসাবাদে আব্বাস

থাপ্পড়ের শোধ নিতে মা-মেয়েদের গলা কেটে হত্যা

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:১৭ এএম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে দুই শিশুকন্যাসহ মাকে হত্যার কথা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আব্বাস আলী। ভায়রা সুমন চড়-থাপ্পড় মারার ক্ষোভ থেকেই আব্বাস শ্যালিকা নাজনীন ও তার দুই মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করে বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। গত বৃহস্পতিবার রাতে কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন এসব তথ্য জানান তিনি।

আব্বাস পটুয়াখালী জেলা সদরের পইক্কা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। সে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বাতানপাড়া এলাকার একটি বাসায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া থাকে।

গত বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বাসা থেকে নাজনীন ও তার দুই মেয়ের লাশ উদ্ধারের পর ওইদিন বিকেলে আব্বাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রাতে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভেতরের একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে আব্বাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে ইয়াবায় আসক্ত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করে আব্বাস জানিয়েছে, তার স্ত্রী ইয়াসমিন ও মেয়ে সুমাইয়া প্রায়ই রাগ করে ভায়রার বাসায় চলে যেত। এসব বিষয় নিয়ে একবার ভায়রা সুমন তাকে চড়-থাপ্পড় মেরেছিল। এছাড়া শ্যালক হাসানও শাসাত। ওই জিদ থেকেই শ্যালিকা ও তার সন্তানদের হত্যার পরিকল্পনা করে আব্বাস। যাতে তার স্ত্রী আর ওই বাসায় যেতে না পারে।’

আব্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ আরও বলেন, ‘গত বুধবার রাতে আব্বাসের স্ত্রী ইয়াসমিন মেয়ে সুমাইয়াকে নিয়ে বোনের বাসায় চলে যান। পরে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সকালে একটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে আব্বাস তার ভায়রার বাসায় যায়। এ সময় স্ত্রী ইয়াসমিন ও ভায়রা সুমন বাসায় না থাকার সুযোগে প্রথমে শ্যালিকা নাজনীন এবং পরে তার শিশুকন্যা নূজরাত ও খাদিজাকে গলা কেটে হত্যা করে। এমনকি নিজের মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়াকেও গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায় আব্বাস।’

ঘটনাটি আব্বাস একাই ঘটিয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, ‘আরও তথ্য জানার জন্য রিমান্ড চেয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।’

এদিকে আব্বাসের স্ত্রী ইয়াসমিন বলেন, ‘আমি আদমজী ইপিজেডের সুপ্রিম গার্মেন্টসের সুইং মেশিন অপারেটর। সে (আব্বাস) কোনো কামকাজ করে না। বেতন পেলেই নেশা করার জন্য আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিত। এ নিয়ে কিছু বললেই আমাকে ও আমার মেয়েকে মারধর করত। এ কারণে মাঝেমধ্যে রাগ করে মেয়েকে নিয়ে ছোট বোনের বাসায় চলে যেতাম। আমি সকাল সাড়ে ৭টায় বোনের বাসা থেকে কাজে চলে যাই। ১০টার পরে খুনের কথা জানতে পারি।’

এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় আব্বাসকে আসামি করে নিহত নাজনীনের স্বামী সুমন বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত