জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি নেই ডিএনডিবাসীর!

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৩:৩০ এএম

জলাবদ্ধতার অভিশাপ থেকে কোনোভাবেই মুক্তি মিলছে না নারায়ণগঞ্জে ডিএনডি (ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা) বাঁধের মধ্যে বসবাসকারী কয়েক লাখ মানুষের। সামান্য বৃষ্টিতেই কয়েক ফুট পানির নিচে তলিয়ে থাকছে পুরো এলাকা। অপরিকল্পিতভাবে নানা স্থাপনা গড়ে ওঠায় এ সমস্যা আরও প্রকট আকার নিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তার কাজ ধীরগতিতে চলছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তবে প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিএনডি এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সৌন্দর্যবর্ধনে সরকারের মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে আর দুর্ভোগ পোহাতে হবে না এলাকাবাসীকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ডিএনডি বাঁধের ভেতরের অংশের পানি নিষ্কাশনের জন্য ফতুল্লা শিবু মার্কেট হয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ পাম্প হাউজে গিয়ে মিশেছে একটি খাল। যার বেশিরভাগ অংশই ভরাট হয়ে গেছে। শিবু মার্কেট, কাঠেরপুল ও দক্ষিণ সস্তাপুর এলাকাসহ বৃহত্তর ফতুল্লা এলাকায় বর্জ্য ও পলিথিনের কারণে পুরো খালটি ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে পানি নিষ্কাশন প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড খালের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যায়। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ডিএনডি থেকে সুষ্ঠুভাবে সেচ কাজ পরিচালনা করা এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য ৯টি সেচ খাল, ৯টি ডিটিও খাল, ২১০টি আউটলেক খাল, ৮৫টি চকবন্দি খাল ও ১০টি নিষ্কাশন খাল রয়েছে। এ ছাড়াও রয়েছে এক কিলোমিটার দীর্ঘ ইনটেক খাল এবং ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ মেইন ক্যানেল টার্ন আউট খাল। কিন্তু এসব খালের অধিকাংশই ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডিএনডির জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসন ও পানি নিষ্কাশনে ২০১৬ সালে একনেকের সভায় ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প পাস হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পটির বাস্তবায়নের কাজ চলছে ধীরগতিতে। প্রকল্প অনুমোদনের দুই বছর পার হলেও আশানুরূপ কাজ হয়নি।

চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি ডিএনডি প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনে এসে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেছিলেন, ডিএনডি এলাকার নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন শীর্ষক দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পের কাজটি সঠিক সময়ে ও দ্রুততার সঙ্গে সমাপ্ত করা হবে। ১৫ এপ্রিলের মধ্যে নির্মাণাধীন পাম্পগুলো রেডি (প্রস্তুত) হবে এবং ৩০ এপ্রিলের মধ্যে পাম্পগুলো সচল হবে। ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে ডিএনডিতে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না।

ডিএনডি এলাকার বাসিন্দা মজিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০১৫ সালের বর্ষা মৌসুমে নারায়ণগঞ্জের সাংসদ শামীম ওসমানের অনুরোধে ডিএনডি এলাকা পরিদর্শনে আসেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে ডিএনডি এলাকা ঘুরে মানুষের দুর্ভোগের চিত্র পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরে ২০১৬ সালে একনেকের সভায় ৫৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে একনেকে প্রকল্প অনুমোদনের দুবছর পার হয়ে ফের বর্ষা মৌসুম এসেছে। গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে ডিএনডি এলাকা ফের জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। ডুবে গেছে রাস্তাঘাট ও খাল।’

প্রকল্প অনুমোদনের বছর পার হলেও কাজের অগ্রগতি না হওয়ার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিএনডির পানি নিষ্কাশন প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মো. আব্দুল আউয়াল মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দ্রুতগতিতে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর কাজটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ডিএনডির আওতাধীন বিভিন্ন এলাকাতে কাজ চলছে। ডিএনডির জলাবদ্ধতা নিরসন ও সব সমস্যা সমাধানে সেনাবাহিনীর অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে।’

১৯৬৫-৬৮ সালে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা অঞ্চলের ৬ হাজার হেক্টর জমি নিয়ে ইরিগেশনের জন্য গড়ে তোলা হয় ডিএনডি প্রজেক্ট। কিন্তু এই প্রজেক্টের ভেতরে গড়ে উঠেছে একের পর এক শিল্প-কারখানা ও বাড়িঘর। এখানে বসবাস করছে প্রায় ২০ লাখ মানুষ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত