শিক্ষা বোর্ডের অনাপত্তিপত্র নেবে ইসি

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:০৫ এএম

এখন থেকে এসএসসি বা সমমানের শিক্ষা সনদধারী ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের অনাপত্তিপত্র নেবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ (এনআইডি উইং)। এ ছাড়া ন্যূনতম ১৮ বছরের কোনো শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে এনআইডির ফটোকপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে বলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত জানিয়েছে এনআইডি উইংয়ের কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক সাইদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এনআইডি সংশোধনে অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যার মুখে পড়তে হয়। ভোটার তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রযোজ্য ক্ষেত্রে এসএসসির সনদের ওপর জোর দিয়ে থাকি। কিন্তু সেই সনদ আসল না নকল, সেটা বোঝার উপায় থাকে না। সে জন্যই এ ধরনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের সহযোগিতা নেব।’

এনআইডি উইংয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেউ যদি সার্টিফিকেটের কোনো তথ্য পরিবর্তন করতে চান, সেক্ষেত্রে এনআইডি উইং থেকে সেটি যাচাই করে নিতে হবে। বর্তমানে যারা কমপক্ষে এসএসসি বা সমমানের শিক্ষা সনদধারী তাদের শিক্ষা সনদ দিয়েই তথ্য সংশোধন করা হচ্ছে। তবে বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের ডেটাবেজ আপডেট নয়। ফলে এনআইডিকে অনলাইনে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হবে।

তারা আরও জানিয়েছেন, কমিশনের পক্ষ থেকে এনআইডি উইংয়ে সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষা সনদ প্রাপ্তির আগে যাদের ভোটার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে তাদের এনআইডির তথ্য অনুযায়ী সনদ সংশোধন করতে বলা হয়েছে। ন্যূনতম ১৮ বা তার বেশি শতভাগ ব্যক্তির তথ্য ইসির তথ্যভাণ্ডারে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সুতরাং ইসির সনদ ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা যাবে না।

এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক বলেন, ‘যাদের বয়স ১৮ বা তার বেশি, এমন শতভাগ লোককে ইসি নিবন্ধিত করেছে। সুতরাং কেউ যদি বলে তার এনআইডি নেই, সেটা গ্রহণযোগ্য হওয়া উচিত নয়। আমরা বলেছি, এ ধরনের ক্ষেত্রে ইসির সনদ ছাড়া শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা যাবে না। তাদের বলেছি, তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে আমাদের যেন অবহিত করে নেন, তা হলে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজটি করা সহজ হবে।’

এনআইডি উইংয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত পাস করা শিক্ষার্থীদের তথ্য সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সার্ভারে পাওয়া যায়। তার আগে পাস করা ব্যক্তিদের তথ্য বোর্ডের সার্ভারে নেই। সেক্ষেত্রে অনলাইনে যাচাই করতে না পারলে চিঠি দিয়ে বোর্ডে তথ্য চাওয়া হবে।

তারা আরও জানিয়েছেন, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর সঙ্গে এনআইডি উইংয়ের সংযুক্তি আছে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ইসির কর্মকর্তারা এসব বোর্ডের সার্ভারে প্রবেশ করতে পারেন। কিন্তু কারিগরি শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কারও তথ্য পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিবন্ধন অনুবিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে। আর যারা জন্মনিবন্ধন নিয়ে সনদ সংশোধন করতে যাবে, তাদের বয়স যদি ১৮ বছরের বেশি হয় তাহলে তাদের এনআইডি উইং থেকে সনদ নিতে হবে। ফলে এনআইডি উইংয়ে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিলেই সেই ব্যক্তির সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ই-মেইল ব্যবহার করে তার সব তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে। তবে এজন্য কোনো ফি না নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত