অর্থ জোগাড় করতে ক্রিপ্টো কারেন্সিতে ঝুঁকেছে জঙ্গিরা

আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:০২ এএম

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে অর্থ সংগ্রহে ক্রিপ্টো কারেন্সির ব্যবহার শুরু করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে সিরিয়া, ইরাক ও ভারতের কাশ্মীরের মুসলমানদের ওপর হামলার বীভৎস দৃশ্য দেখিয়ে তাদের সহায়তায় ‘গোপন এই পদ্ধতি’তে অর্থ সংগ্রহ করছে তারা। সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) অনুসন্ধানে এমন তথ্য বেরিয়েছে।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, ক্রিপ্টো কারেন্সি হলো ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেনের গোপনীয় পদ্ধতি, যার মাধ্যমে দেশ থেকে বিদেশে কিংবা বিদেশ থেকে দেশে অর্থ আনা-নেওয়া করা যায়। অনলাইনে এভাবে অর্থের লেনদেন হলে প্রেরণকারী ও গ্রহণকারী কারও তথ্যই উদ্ধার করা যায় না। দেশের ইতিহাসে আগে কখনো জঙ্গি সংগঠনগুলোর ক্রিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকায় তারা এখন এই পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহে নেমেছে। গত বুধবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের দুই সদস্য মো. আওয়াল নেওয়াজ (৩৮) ও ফজলে রাব্বী চৌধুরীকে (১৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা জঙ্গি কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য এই পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করছিল। এভাবে অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্য ও কৌশলের বিস্তারিত জানার জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করে দুদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

সিটিটিসির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আহমেদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, গ্রেপ্তার দুই জঙ্গি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ সংগ্রহের এ কৌশল সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে। তারা জানিয়েছে প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ কিছু সিক্রেট গ্রুপ খোলে। সেখানে বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের ওপর হামলা, নির্যাতনের ছবি দেখিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য শারীরিকভাবে অংশগ্রহণের কথা বলে। কেউ না পারলে নুসরাহ (অর্থ সহায়তা) চাওয়া হয়। এরপর তাদের আহ্বানে সাড়া দেওয়া ব্যক্তিদের ম্যাসেঞ্জারে সিঙ্গেল চ্যাটে নিয়ে যায়। সেখানে কত টাকার ‘নুসরাহ’র বিনিময়ে ইহকাল ও পরকালে কী পরিমাণ লাভবান হওয়া যাবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে থাকে। এরপর তাদের আহ্বানে কেউ অর্থ দিতে রাজি হলে ব্যক্তিগত ওয়ালেটের মাধ্যমে বিট কয়েন কিনে থাকে। পরে সেই কয়েনের কোড জঙ্গিদের কাছে সরবরাহ করে থাকে। সিটিটিসির অপর এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুধু আনসার আল ইসলাম নয়, বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত বেশিরভাগ জঙ্গি সংগঠন বিশেষ করে নব্য জেএমবির সদস্যরাও এই কৌশলে অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছে। এতে যেমন ধরা পড়ার আশঙ্কা থাকে না, তেমনি অর্থ ট্র্যানজেকশনের কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায় না।

গ্রেপ্তার দুই জঙ্গির কাছ থেকে মোবাইল ফোনসহ শায়খুল হাদিস মুফতি মুহাম্মদ জসীমুদ্দীন রাহমানীর লেখা ‘দ্বীন কায়েমের সঠিক পথ’ নামে একটি বই উদ্ধার করা হয়। এছাড়া এই জঙ্গিদের সহযোগী হিসেবে আরও দুজনের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়। তারা হলো জয়নাল ওরফে জনি (১৮)  ও  আহমেদ অভি (১৯)। তারাও ক্রিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছিল বলে জানান সিটিটিসির একাধিক কর্মকর্তা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত