প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন নিয়ে মাদারীপুরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজে জেলা ছাত্রলীগের মধ্যে দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ১৩ জনকে ফরিদপুর ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ
হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী নেতাকর্মীরা জানান, মাদারীপুরে দীর্ঘদিন থেকেই ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এক গ্রুপ সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান সমর্থিত, অপর গ্রুপ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম সমর্থিত। গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে আনন্দ র্যালি করে নাছিম সমর্থিত ছাত্রলীগ। এ সময় শাজাহান খানের সমর্থিত গ্রুপও র্যালি করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। প্রথমে কথা-কাটাকাটি, পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতে ছয় পুলিশসহ ৪০ জন আহত হন।
নাছিম সমর্থিত জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাহিদ হোসেন অনিক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে আনন্দ র্যালি করছিলাম। এ সময় প্রতিপক্ষ গ্রুপ হামলা চালায়।’ শাজাহান খান সমর্থিত জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানভীর মাহমুদ আবীর বলেন, ‘জন্মদিন উপলক্ষে আমরা কলেজ ক্যাম্পাসে কেক কাটার কর্মসূচির আয়োজন করি। কেক কাটা শেষ না হতেই অনিকের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে ৩০ নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন।’
সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রিয়াদ মাহমুদ বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ ১৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত অনেকে এখানে ভর্তি আছেন।’
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, ‘দুই গ্রুপকে আলাদা রাস্তায় গিয়ে জন্মদিন পালন করতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা একই স্থানে মিছিল করতে গিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে।’ কলেজ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগের সাতজনকে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
