চলচ্চিত্র শিল্পীদের সংগঠন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন ২৫ অক্টোবর। নির্বাচনকে সামনে রেখে চলছে প্রচার-প্রচারণা। গত ১ অক্টোবর নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে দুটি প্যানেল। সেদিন দুপুরে শিল্পী সমিতির নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে মিশা সওদাগর-জায়েদ খান প্যানেল। আর বিকেলে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে মৌসুমী-ডি এ তায়েব প্যানেল। মিশা সওদাগর সভাপতি এবং জায়েদ খান সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচন করবেন এবারও। অন্যদিকে নতুন প্যানেলে মৌসুমী সভাপতি এবং ডি এ তায়েব নির্বাচন করার কথা ছিল সাধারণ সম্পাদক পদে। তবে গতকাল নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে একটি প্যানেল। ডি এ তায়েব সরে দাঁড়িয়েছেন। আজ বিকেল ৫টায় প্রকাশ করা হবে প্রার্থীদের খসড়া তালিকা। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৭ অক্টোবর। ওইদিনই প্রকাশ করা হবে চ‚ড়ান্ত প্রার্থী তালিকা। এবার নির্বাচনে মোট ৪৪৯ জন ভোটার ভোট দেবেন।
তবে এরই মধ্যে এই নির্বাচন নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। এক দফা নির্বাচনের তারিখ পিছিয়েছে। এফডিসিতে চলছে নানা কথাবার্তা, তর্ক, আড্ডা। এবারের নির্বাচনে বড় চমক হিসেবে রয়েছেন চলচ্চিত্রের প্রিয়দর্শিনী নায়িকা মৌসুমী। নির্বাচনে মৌসুমী সভাপতি পদে লড়বেন। কিন্তু এরই মধ্যে অনেকে জল ঘোলা করার চেষ্টা করছেন, প্যানেল গোছানো নিয়ে চক্রান্ত চলছে বলে ফেইসবুকের এক ভিডিও বার্তায় জানালেন তার স্বামী চিত্রনায়ক ওমর সানী। তিনি এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আমাদের সহকর্মীদের অনুরোধে মৌসুমীকে সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবে দাঁড় করাতে বাধ্য করেছি আমরা। কিন্তু অনেক চক্রান্ত চলছে। মৌসুমীর প্যানেলে অনেক মহারথী আর্টিস্টরা ছিলেন। আজকে তারা কেউ নেই। কোনো এক অদৃশ্য ভয়ের কারণে, আমি নাম বলতে চাই না। সেই শক্তি চায় সভাপতি, সেক্রেটারি এবং অন্যান্য ক্যাটাগরিতে কেউ যেন না দাঁড়ায় নির্বাচনে। মৌসুমী আসলেই দাঁড়াত না। সেই সুযোগ তো মৌসুমীকে আপনারা দিলেন না। সেই সুযোগটা কি জানেন? মৌসুমী চেয়েছিল মাহমুদ কলি, মাসুদ পারভেজ (সোহেল রানা), আলমগীর, ওয়াসিম, উজ্জ্বল, ফারুক, ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই আসুক আমি ছেড়ে দেব। যদিও উনারা আজীবন সদস্য এই সমিতির। এমনকি ডিপজল কিংবা রুবেল ভাই নির্বাচন করুক আমি ছেড়ে দেব। কিন্তু সেই সুযোগ তো আপনারা দিলেন না মৌসুমীকে। মিশার সঙ্গে বসতে হবে কেন? মানুষের হার-জিত আছেই। হয়তোবা মৌসুমী পরাজিত হবে, মিশা জয়ী হবে। অথবা মিশা পরাজিত হবে, মৌসুমী জয়ী হবে। এটা এমন কিছু ব্যাপার নয়। কিন্তু এটাকে এতভাবে নিচ্ছেন কেন আপনারা? এত ভয় কিসের? মৌসুমী অটল। নির্বাচন করবে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস মৌসুমীর কলিগরা, সিনিয়রা, জুনিয়রা কিংবা আমরা কেউই পিছপা হব না। একলা চলার মধ্যেও আমাদের ডি এ তায়েব আছে। মৌসুমী ও ডি এ তায়েব আছে এবং থাকবে। ইনশাল্লাহ। আমরা আশা করব, আপনারা ভোট দেবেন এবং প্যানেল কোনো ফ্যাক্ট নয়। আমার মনে হয় ব্যক্তি হচ্ছে ফ্যাক্টর।’
মোট কথা এখন প্যানেলের নেতারা দারুণ ব্যস্ত আসন্ন নির্বাচন নিয়ে। দুই প্যানেলের সভাপতি পদের দুই প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল এবারের নির্বাচন নিয়ে তাদের ভাবনা, জয়ী হলে কী ধরনের পদক্ষেপ তারা নেবেনÑ এসব বিষয়ে। এই নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা কীÑ জানতে চাইলে মৌসুমী বলেন, ‘আমার অভিনয় জীবনের শুরু থেকে সব সময়ই শিল্পীদের পাশে থেকেছি। শিল্পীদের পাশে আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার জন্যই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আমাদের শিল্পী সমিতি সুন্দর একটা সংগঠন। এটা শিল্পীদের অনেক তাৎপর্য বহন করে। সংগঠনটি ভালোভাবে পরিচালিত হবে সবার মতো আমারও প্রত্যাশা।’
গত নির্বাচনে সাধারণ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর কমিটি থেকে সরে গিয়েছিলেন মৌসুমী। বর্তমান কমিটির কার্যক্রমে আপনি সন্তুষ্ট কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যারা আগে শিল্পী সমিতি পরিচালনা করেছেন, এখনো করছেন তারা তাদের মতো করে ভালো করেছেন। যদিও ক্ষেত্রবিশেষে কারও কারও বিষয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। যেহেতু নির্বাচিত হওয়ার পর ব্যক্তিগত কারণে আমি কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছিলাম। ফলে কমিটির ভেতর কী হয়েছে সেটি জানি না। এবার বিজয়ী হলেই জানতে পারব কমিটি কী করেছে, কী করেনি।’
জয়ী হলে প্রথম কাজ কী করবেন সে বিষয়েও জানালেন মৌসুমী, ‘বর্তমান কমিটি নিয়ে অনেকেই আমার কাছে প্রশ্ন করেছেন, নানা বিষয়ে অভিযোগও করেছেন। বর্তমান কমিটির বিপরীতে কোনো প্যানেল দাঁড়ায়নি বলেই আমি দাঁড়িয়েছি। জয়ী হলে অবশ্যই তাদের প্রশ্নগুলোর উত্তর বের করব, সমস্যার সমাধানও করব। সমিতি পরিচালনার সিস্টেম যেন আরও আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল হয়, প্রত্যেক শিল্পীর সম্মানের দিকে নজর দেওয়া হয়Ñ এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করব।’
মিশা সওদাগর বলেন, ‘শিল্পী সমিতির সভাপতি হতে পারলে যেসব কাজ এখনো করতে পারিনি সেসব কাজ করব, যা ওয়াদা করেছিলাম। কিন্তু করা হয়নি। নিজের কাছে নিজের এ ওয়াদা। মৌসুমীকে অভিনন্দন। শিল্পী সমিতির সদস্যরা তাদের গাঁথা মালা যাকে দেবে সে পরবে।’
বিপক্ষের প্যানেলের অভিযোগ নিয়ে মিশা সহজ উত্তর দিলেন, ‘আমি তো এর আগেও একাধিকবার নির্বাচন করেছি, জয়ী হয়েছি। সুতরাং আমি জানি কীভাবে সমিতির কাজ করতে হয়। যারা নতুন তারা এটাকে অনেক বেশি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন বলে সব কিছুতে তারা দোষ খুঁজে পান। আমার কথা হলোÑ শিল্পীরা যাকে বেশি ভালোবাসে ও যোগ্য মনে করে তাকেই নির্বাচিত করবে। এ নিয়ে জোর-জবরদস্তি বা রাজনীতির পক্ষে আমি নই। এখানে আমি ক্ষমতা ভোগ করতে আসিনি। কারণ, এটা সে জায়গাও নয়। আমি এসেছি কাজ করতে। অভিনয়ের পাশাপাশি শিল্পীদের জন্য কাজ করাটাই উদ্দেশ্য। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।’
