ধর্ষণের পর অচেতন ছাত্রীকে রেখে চম্পট দুই শিক্ষক

আপডেট : ০৪ অক্টোবর ২০১৯, ০১:৪৭ এএম

মাদ্রাসায় রাতের কোচিংয়ের পর ধর্ষণে অচেতন ছাত্রীকে টয়লেটের পাশে খোলা জায়গায় ফেলে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বলা হচ্ছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ঝাপা বালিকা দাখিল মাদ্রাসায়। বাড়ি না ফেরায় গভীর রাতে অভিভাবকরা খোঁজ করতে বেরিয়ে পড়ে থাকা ওই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। ওই ছাত্রী তিন দিন মাদ্রাসায় না যাওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার এক শিক্ষক তার বাড়িতে গিয়ে এ ঘটনা জানতে পারেন। অভিভাবকরা লোকলজ্জার ভয়ে এ তিন দিন চুপ ছিলেন।

ঘটনা জেনে গতকাল দুপুরে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকসহ এলাকাবাসী মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে অভিযুক্ত সহকারী মৌলভী শিক্ষক নজরুল ইসলামকে গণপিটুনি দেন। এর এক ফাঁকে তিনি পালিয়েও যান। অভিযুক্ত অপর শিক্ষক তরিকুল ইসলাম আগেই পালিয়ে যান। 

সংক্ষুব্ধরা দপ্তরে তালা দিয়ে শিক্ষকদের প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে বিকেলে উপজেলা শীর্ষ প্রশাসনিক ও পুলিশ কর্মকর্তারা মাদ্রাসায় যান। রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক দুই শিক্ষককে ধরতে অভিযান চলছে।

মনিরামপুর থানার ওসি (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলার এক কৃষকের দাখিল পরীক্ষার্থী মেয়েসহ অন্য ছাত্রীরা প্রতিদিন সন্ধ্যার পর মাদ্রাসায় কোচিং ক্লাস করে রাত ৮টার দিকে বাড়ি ফিরে যায়। গত সোমবার রাতে কোচিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন সহকারী মৌলভী শিক্ষক নজরুল ইসলাম ও কৃষি শিক্ষক তরিকুল ইসলাম। আর কোচিং ক্লাস তদারকির দায়িত্বে

 ছিলেন মাদ্রাসা সুপার শাহাদাৎ হোসেন। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে রাত সাড়ে ৮টার দিকে এক ছাত্রীকে কক্ষে রেখে বাকিদের ছুটি দেওয়া হয়। অভিযোগে জানা গেছে, এরপর শিক্ষক তরিকুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম মাদ্রাসার একটি কক্ষের মধ্যে ওই ছাত্রীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে রক্তাক্ত ওই ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তারা তাকে মাদ্রাসার বাইরে টয়লেটের পাশে ফেলে রেখে চলে যান।

ওই ছাত্রীর বাবা জানান, গভীর রাতে অচেতন অবস্থায়  সেখান থেকে তার মেয়েকে উদ্ধারের পর লোকলজ্জার ভয়ে অতিগোপনে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসার পর অবস্থার একটু উন্নতি হলে গত বুধবার মেয়েকে বাড়িতে আনেন। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তার মেয়ে এখনো অসুস্থ।

ওই ছাত্রী কয়েক দিন মাদ্রাসায় না যাওয়ায় অপর সহকারী শিক্ষক আবদুর রশিদ মুকুল গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে তার বাড়িতে গিয়ে ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে ধর্ষণের ঘটনা জানতে পারেন। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে বেলা ১২টার দিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে অফিস কক্ষে তালা দিয়ে সব শিক্ষককে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।

মাদ্রাসার সুপার শাহাদাত হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, দুই ঘণ্টা পর স্থানীয়দের সহায়তায় তারা মুক্ত হন। অবশ্য এ সময় বিক্ষুব্ধরা অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক নজরুলকে মাদ্রাসা থেকে ধরে নিয়ে বেধড়ক মারপিট করেন। এ সময় তিনি কৌশলে পালিয়ে যান। অপর শিক্ষক তরিকুল ইসলাম আগেই পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে বিকেলে সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) সাইয়েমা হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার রাকিব হাসান, মনিরামপুর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মৌসুমি সুলতানা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সরকার মাদ্রাসায় যান। কর্মকর্তারা এ সময় ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হন। রাতেই পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় ওসি (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম জানান, ধর্ষণের ঘটনায় ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। সহকারী পুলিশ সুপার রকিব হাসান জানান, তাদের ধরতে অভিযান চলছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত