‘প্রফেসর আবদুল জলিল তৃণমূল পর্যায়ে উচ্চস্তরে গণশিক্ষায় অসাধারণত্ব প্রদর্শন করেছেন, গণশিক্ষায় তার কৃতিত্ব-সংগ্রাম আমাদের সবার জন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ। তার সততা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং দায়িত্ববোধ হয়ে থাকবে উদাহরণ।’
ভাষাসংগ্রামী, শিক্ষাবিদ, লেখক, নোয়াখালী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল জলিলের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী ও বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে তাকে নিয়ে এসব বললেন বক্তারা।
স্মরণসভায় প্রফেসর আবদুল জলিলকে ছাত্রজীবনে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭৫ পরবর্তী বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ছাত্ররাজনীতিকে সক্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার জন্য মরণোত্তর একুশে পদক প্রদানের দাবি জানানো হয়।
নোয়াখালী সরকারি কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে রাজধানীর জাতীয় স্কাউট ভবনের সামস্ হলে পাঁচ অক্টোবর শনিবার বিকেলে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণসভার শুরুতে শুদ্ধ প্রকাশ থেকে প্রকাশিত তাকে নিয়ে লেখা অধ্যক্ষ ‘আবদুল জলিল: স্মৃতিজল সুধায় আজন্ম’ ও তার লেখা ‘নির্বাচিত প্রবন্ধ’ বই দুইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
বক্তারা বলেন, তিনি শিক্ষাকে সত্যিকার অর্থে ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে তিনি নিজের দায়িত্বকে ধ্যান-জ্ঞান মনে করতেন। তিনি সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য নিজের সমগ্র শক্তি নিয়োজিত করেছেন। সম্পূর্ণভাবে নিজেকে নিয়োজিত করেছেন। যার ফলশ্রুতিতে দক্ষিণ জনপদের নোয়াখালী অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। তিনি ছিলেন পাদপ্রদীপের আড়ালে।
বক্তারা বলেন, আবদুল জলিল ছিলেন প্রজ্ঞাবান, বিচক্ষণ ও শিক্ষিত মানুষ। সমাজে কিছু মানুষ থাকেন, তারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও দেশপ্রেম ও মূল্যবোধের ঘাটতি থাকে। সত্যিকারের মানুষ যারা তাদের ভেতর এ গুণগুলো থাকে। আবদুল জলিল ছিলেন এসব গুণের অধিকারী।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা ভিপি আবু নাছের খান পান্নু। স্মৃতিচারণা করেন সংসদ বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক নারায়ন চন্দ্র শীল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল খায়ের, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ ফজলে আজিম, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট শাহানা পারভীন, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকির হোসেন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব খন্দকার ইসমাইল, প্রফেসর আবদুল জলিলের কন্যা নিউ গর্ভ. গার্লস হাই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক খালেদা পারভীন, নোয়াখালী সরকারি কলেজছাত্র সংসদের সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক মোহাম্মদ শরীফ, নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সামছুল ফারুক, ভিপি আলাউদ্দিন, প্রাক্তণ ছাত্র বশির আহমেদ খান, জহির মাহমুদ প্রমুখ।
সভা সঞ্চালনা করেন নোয়াখালী সরকারি কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম বিপ্লব।
বক্তারা আরো বলেন, প্রফেসর আবদুল জলিল যেমন ছাত্রজীবনে সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করেছেন, তেমনি ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭৫-র পরবর্তী বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ছাত্র রাজনীতিকে সক্রিয় করে তোলা ক্ষেত্রে নেপথ্যে ভূমিকা রাখেন।
