বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনালের ২২ শতাংশ শেয়ার কিনে নিয়েছে জাপানভিত্তিক বৈশ্বিক জ্বালানি কোম্পানি জেরা। এজন্য ৩৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে হয়েছে জাপানি কোম্পানিটিকে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে আরও বিনিয়োগের পদক্ষেপ হিসেবে জেরার কাছে মালিকানা বিক্রি করেছে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত সামিট পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল। গতকাল এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সামিট।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর সামিট গ্রুপ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে থাকে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বেসরকারি খাতে বাংলাদেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় সামিট। সামিট গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান আওয়ামী লীগ নেতা এবং সাবেক বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী ফারুক খানের সহোদর।
গত মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাপান সফরকালে তার উপস্থিতিতে সামিট ও জেরার মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়। ওই সময় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মুহাম্মদ আজিজ খান ও জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা উপস্থিত ছিলেন। এমওইউ সইয়ের চার মাসের মাথায় ৩৩ কোটি ডলার বিনিয়োগ করল জেরা।
সামিট পাওয়ারের অংশীদার হিসেবে জেরা বিদ্যুৎ উৎপাদনে দক্ষতা নিশ্চিত করা ও পরিচালনার মাধ্যমে সামিট পাওয়ারের করপোরেট ভ্যালু বাড়াতে কাজ করবে। এছাড়া বাংলাদেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখার জন্য কাজ করবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
মুহাম্মদ আজিজ খান জেরার বিনিয়োগে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের দ্রুত ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের জন্য অতীব প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি এবং বিনিয়োগ জেরার মাধ্যমে সহজলভ্য হবে। কারণ জেরার রয়েছে বিশাল অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ সক্ষমতা। জেরা সর্বাংশে আমাদের শ্রেষ্ঠ অংশীদার হতে পারে। এই অংশীদারত্ব ২০২২ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ৩০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ কার্যক্রমে সহায়তা করবে।’
জেরা-এশিয়ার সিইও তোসিরো কুদামা বলেন, ‘এই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারত্বের মাধ্যমে জেরা সামিটের সঙ্গে কাজ করবে। সামিটের অপ্রতিদ্বন্দ্বী সক্ষমতায় আমাদের সম্পূর্ণ আস্থা আছে। সামিটের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখব। আমরা বাংলাদেশে শুধু নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনই করব না, প্রাথমিক জ্বালানিও সরবরাহ করব। জেরার লক্ষ্য হলো, বিশ্বের জ্বালানি খাতের অন্তর্নিহিত সমস্যার সর্বাঙ্গিক সমাধান দেওয়া।’
তিনি বলেন, জেরার আকাক্সক্ষা হলো শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন। সেই উদ্দেশ্যে জেরা সামিটকে অভিজ্ঞ মানবসম্পদ এবং কারিগরি সহায়তা দেবে।
আইএফসি, আইএফসি ইমার্জিং এশিয়া ফান্ড এবং ইএমএ পাওয়ার ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সামিটের শেয়ারহোল্ডার ছিল। এই লেনদেনের মাধ্যমে তারা প্রস্থান করবে। তবে বড় ঋণদাতা হিসেবে আইএফসি সামিটের সঙ্গেই থাকবে।
