মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার কলিয়া ইউনিয়নের তালুকনগর গ্রামে সালিশে ধর্ষণ ও বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণার ন্যায়বিচার না পেয়ে নাছিমা বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নাছিমার বাবা মো. আব্দুল হক বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার দৌলতপুর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নাছিমার স্বামী প্রবাসে থাকেন। প্রতিবেশী শাকিল নাছিমার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ করেন। পরে তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে নাছিমাকে অপমান করেন। শাকিল তালুকনগর গ্রামের ইনসান আলীর ছেলে।
অভিযোগ রয়েছে, শাকিল তাদের সম্পর্কের ভিডিও দেখিয়ে নাছিমাকে ব্ল্যাকমেইল করে প্রায় ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। বিষয়টি নিয়ে গত ১৮ জুলাই তালুকনগর গ্রামের আলমগীরের বাড়িতে গ্রাম্য সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে উপস্থিত ছিলেন আলমগীর, ইউপি সদস্য শরিফ ইসলাম লালন, আলেক, হাবেল, জলিল, শামসুল, রবিজ্জল, সুরমান, আলিম, আনোয়ার, আলম ও সিরাজুল। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, সালিশকারীরা নিরপেক্ষ বিচার করেননি। তারা অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়েছে। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন নাছিমা।
নিহতের ভাই রাসেল মিয়া বলেন, ‘আমার বোন বিচার না পেয়ে আত্মহত্যা করেছে। সালিশে একতরফাভাবে অভিযুক্তদের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সালিশের পরদিন ভোরে বাড়ির রান্নাঘরের পাশে গলায় শাড়ি পেঁচিয়ে ফাঁস দেওয়া নাছিমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।’
গতকাল রবিবার মামলার আসামি মোহাম্মদ শাকিল মিয়া, তার বাবা ইনসান আলী ও ছোট ভাই সুমন মিয়া মানিকগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
এদিকে নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কিছু ভিডিও পাওয়া গেছে, যেখানে শাকিল সম্পর্কের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে ভিডিওগুলোর সত্যতা নিশ্চিতভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বপন কুমার সরকার বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে।’