রসায়নে নোবেল তিন বিজ্ঞানীর

‘রিচার্জেবল পৃথিবী’ সহজ করেছে প্রাত্যহিক জীবন

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৯, ০১:৩৪ এএম

মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়ি সব যন্ত্রে আজকের দিনে যে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ব্যবহৃত হচ্ছে, তার উন্নয়ন ঘটানোয় তিন বিজ্ঞানী পেয়েছেন এবারের রসায়ন শাস্ত্রের নোবেল। গতকাল বুধবার রয়াল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ পুরস্কারের জন্য মার্কিন বিজ্ঞানী জন বি গুডএনাফ ও এম স্ট্যানলি হুইটিংহ্যাম এবং জাপানের আকিরা ইয়োশিনোর নাম ঘোষণা করে।

নোবেল কমিটির ভাষ্য, ওই তিন বিজ্ঞানী আসলে একটা রিচার্জেবল পৃথিবী তৈরি করেছেন যা মানুষের প্রাত্যহিক জীবনকে সহজ করেছে।

এই তিন বিজ্ঞানী পুরস্কারের ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার ভাগ করে নেবেন। আগামী ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

নোবেল কমিটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, হুইটিংগাম ১৯৭০-এর দশকে প্রথম ব্যবহারযোগ্য লিথিয়াম ব্যাটারির উন্নয়ন ঘটান। সে সময় বিশ্বজুড়ে জ¦ালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিলে এম স্ট্যানলি হুইটিংহ্যাম জীবাশ্ম জ¦ালানিমুক্ত শক্তির উৎস সন্ধানে কাজ শুরু করেন। তিনি সুপারকন্ডাকটর নিয়ে গবেষণার সময় উচ্চমাত্রার শক্তিসম্পন্ন উপাদান খুঁজে পান। যা লিথিয়াম  ব্যাটারির ক্যাথোড হিসেবে ব্যবহার করেন।

ওই ব্যাটারিগুলো অ্যানোড ছিল ধাতব লিথিয়ামের যা ইলেকট্রন ছাড়ে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। তবে আফসোসের কথা সেই ব্যাটারির ছিল বিস্ফোরণের ঝুঁকি। এরপর ১৯৮০ সালের দিকে জন বি গুডএনাফ ওই ব্যাটারির ঝুঁকি কমিয়ে ক্ষমতাকে দ্বিগুণ করে তোলেন। তিনি দেখান, লিথিয়াম ব্যাটারির ক্যাথোডটি যদি ধাতব সালফাইডের বদলে ধাতব অক্সাইডের ব্যবহার করা গেলে আরও বেশি শক্তি পাওয়া সম্ভব। তিনি দেখান লিথিয়ামের সঙ্গে কোবাল্ট অক্সাইড ক্রিয়া করে চার ভোল্ট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে পারে। তার এ আবিষ্কার ছোট্ট অথচ অনেকে শক্তিশালী ব্যাটারি তৈরি করতে বিরাট ভূমিকা রাখে।

এরপর আকিরা ইয়োশিনো ১৯৮৫ সালে ওই ব্যাটারি থেকে খাঁটি লিথিয়াম দূর করে লিথিয়াম আয়ন প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটনা। এ প্রযুক্তি খাঁটি লিথিয়াম থেকে বেশি নিরাপদ। এর ফলেই প্রাত্যহিক জীবনে এই ব্যাটারি ব্যবহার সহজ হয়েছে।

গত বছর এনজাইমের বিবর্তন নিয়ে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে এবং অ্যান্টিবডি ও পেপটাইডের ধাপ প্রদর্শন করার জন্য যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী ফ্রান্সেস এইচ আরনল্ড ও জর্জ পি স্মিথ এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্যার গ্রেগরি পি উইন্টার নোবেল পান।

বরাবরের মতো চিকিৎসা বিভাগের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে সোমবার চলতি বছরের নোবেল মৌসুম শুরু হয়। সেদিন চিকিৎসায় এবং মঙ্গলবার পদার্থবিদ্যায় এবারের নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। গতকাল ঘোষণা করা হলো রসায়নে নোবেলজয়ীদের নাম। আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে সাহিত্যের নোবেল। এবার একসঙ্গে ২০১৮ ও ’১৯ সালের সাহিত্যে নোবেলবিজয়ীদের নাম জানানো হবে। এরপর শুক্রবার শান্তি এবং আগামী ১৪ অক্টোবর অর্থনীতিতে এবারের নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত