পঞ্চগড়ে কর্মশালার খাবার কেনার দায়িত্ব না দেওয়ায় শিক্ষা কর্মকর্তার গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক আমিনুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার সকালে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিমাংশু কুমার রায় সিংহের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ চালক ইমতিয়াজ আলী বাবলাকে আটক করেছে। তিনি অবশ্য মারধরের কথা অস্বীকার করেছেন। ভুক্তভোগী কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,
জেলার মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের নিয়ে ছয় দিনব্যাপী সৃজনশীল প্রশ্নপত্র প্রণয়ন প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছে জেলা শিক্ষা অফিস। গতকাল পঞ্চগড় বিপি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় জেলার পাঁচ উপজেলার ২০০ শিক্ষক অংশ নেন।
দুপুরে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় আসেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার গাড়ির চালক ইমতিয়াজ আলী বাবলা। কর্মশালার খাবার কেনার দায়িত্ব না দেওয়ায় আমিনুলকে তিনি গালাগাল করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন বাবলা।
পরে খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর থানার পুলিশ এসে আমিনুলকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে কাঁদতে দেখা যায়। পরে বাবলাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
আহত আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এবার ২০০ জনের ব্যবস্থা থাকলেও আমাকে ১৮০ জনকে প্রশিক্ষণ দিতে বলা হয়। আমি রাজি হইনি। এজন্য বাবলা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সামনেই আমাকে মারধর করেছে। প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’
প্রশিক্ষণে আসা আটোয়ারী উপজেলার সহকারী শিক্ষক কামাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের সামনে বাবলা কর্মকর্তাকে মারধর করেছে। এটি সব শিক্ষকদের জন্য অপমানজনক।’ আটোয়ারী উপজেলার সহকারী শিক্ষক শাহ আলম বলেন, ‘একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হয়েও প্রভাব খাটিয়ে কোটিপতি হয়ে গেছে বাবলা। রংপুরসহ বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট রয়েছে। তার দুর্নীতি খতিয়ে দেখা দরকার।’
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিমাংশু কুমার রায় সিংহ বলেন, ‘আমার সামনে ঘটনাটি ঘটেছে। নিষেধ করলেও বাবলা শোনেনি। ঘটনার পর বিষয়টি আমি জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও মাধ্যমিক শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালককে জানিয়েছি। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক মো. আকতারুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলেই বাবলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ হেফাজতে থাকা গাড়িচালক ইমতিয়াজ আলী বাবলা বলেন, ‘আমি ওই কর্মকর্তাকে মারধর করিনি। তিনিই মেরে আমার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন। আমি শুধু তাকে বলেছিলাম, সব আপনি একা করছেন কেন? খাবার কেনার কমিটি আছে, তাদের দিয়ে করান। এতে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর হামলা করেন।’
