মার্কিন দাপট ঠেকানোর অভিযান

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ১২:৩৪ এএম

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী শহরগুলোতে একযোগে অভিযান চালাচ্ছে তুর্কি সেনাবাহিনী। এই অভিযানের মধ্যেই তুর্কি আর্টিলারি বাহিনী সীমান্তের এমন এক স্থানে বোমা নিক্ষেপ করছে যার কাছেই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাচৌকি। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন যে তুরস্ক কি আসলে সিরিয়ার সীমান্ত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের পিছু হটাতে চাইছে?

কোবানি শহরে গত বুধবার বোমা নিক্ষেপ করতে শুরু করে তুর্কি বাহিনী। এই অঞ্চলেই সন্ত্রাসী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কুর্দি বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। এখনো কোবানিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাচৌকি। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন, সিরিয়ার বিশাল অংশ নিয়ন্ত্রণের দীর্ঘমেয়াদি অভিপ্রায় রয়েছে তুরস্কের। সম্প্রতি পেন্টাগন মুখপাত্র ক্যাপ্টেন ব্রুক ডিওয়াল্ট এক বিবৃতিতে জানান, কোবানির মিসতানার পাহাড়ে তুর্কি আর্টিলারির হামলার শিকার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা। যদিও ওই হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র দাবি জানাচ্ছে যে তুরস্ক এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয় যাতে আমাদের প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নিতে হয়।’ গত শুক্রবার তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, আমেরিকানদের উদ্দেশ করে তুর্কি বাহিনী কোনো হামলা চালায়নি। কিন্তু সিরিয়ার মাঠপর্যায়ে কর্মরত যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মতে, তুর্কি বাহিনীর অভিযান যেকোনো মুহূর্তে ভিন্ন রূপ নিতে পারে। তুরস্কের মাটি থেকে ১৫৫ মিলিমিটারের একাধিক রাউন্ড শেল নিক্ষেপ করা হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সেনাচৌকির সামনে ও পেছনে পড়েছে। তুরস্ক ভালো করেই যুক্তরাষ্ট্রের সেনাচৌকির অবস্থান জানে বলে দাবি এক পেন্টাগন কর্মকর্তার। ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা ম্যাকগ্রুকের মতে, ‘তুরস্ক সীমান্তের ৩০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে আমাদের থাকতে দিতে চায় না। যুদ্ধের ময়দান থেকে প্রাপ্ত তথ্য বলে দিচ্ছে, আমাদের সতর্ক করতেই ওই বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে।’

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের দুদিন পরই গত বুধবার থেকে অভিযান চালাতে শুরু করে তুরস্ক। ‘সেইফ জোন’ সৃষ্টির নামে সিরিয়ায় তুরস্কের এই অভিযান ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন তুলেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত