জাপানে ঘূর্ণিঝড় হাগিবিসে ২৬ জনের প্রাণহানি

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৪৫ এএম

দূরপ্রাচ্যের দেশ জাপানে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হাগিবিসের আঘাতে অন্তত ২৬ জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ১৭ জন। পরিস্থিতি সামলাতে কয়েক হাজার সেনা ও উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে বলে সরকারের উদ্ধৃতি দিয়ে জাপানি সংবাদ সংস্থা এনএইচকে এ কথা জানিয়েছে।

গত শনিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানা শাক্তশালী এই টাইফুন উত্তরের দিকে সরে গেছে। গত কয়েক দিনেই জাপানের কিছু অঞ্চলে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এর প্রভাবে মারাত্মক বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে বহু ক্ষয়ক্ষতিসহ বিদ্যুৎ-সংযোগ হারিয়েছে অন্তত দেড় লাখ ঘরবাড়ি। বিবিসি জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে হুমকির মুখে পড়েছে দেশটির পরিবহনব্যবস্থা। প্রবহমান পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ায় সব ধরনের গাড়ির ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। বন্যার কারণে মধ্য নাগানো প্রদেশের বুলেট ট্রেনগুলো বন্ধ রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সার্ভিসটি বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। অবশ্য আটকে থাকা ট্রেন ও বিমানের পরিষেবাগুলো পুনরায় চালু করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে জাপানে চলমান রাগবি বিশ্বকাপের কয়েকটি ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। তবে জাপান ও স্কটল্যান্ডের মধ্যকার রবিবারের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। এদিকে ফর্মুলা ওয়ানের বাছাইপর্বের ম্যাচটিও প্রথমে ব্যাহত হয়েছিল। পরে কর্র্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ম্যাচটি চালানো হয়। ভালটারি বোটাস নামে একজন ম্যাচটি জয়লাভ করে।

টাইফুনের কারণে রাজধানী টোকিওসহ অন্যান্য এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত ও ঝড় বইছে। বন্যার পানিতে আটকা পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। নৌকা ও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। ভূমিধসের কারণে আটকে পড়া লোকজনকে সরিয়ে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তারা।

সংবাদমাধ্যম এপি জানিয়েছে, হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধারের সময় দুর্ঘটনাবশত ৭০ বছরের এক বৃদ্ধা পড়ে গিয়ে মারা যান। ফায়ার সার্ভিসের বরাত দিয়ে এ কথা জানানো হয়েছে।

অতি অল্প সময়ে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে দেশটির সরকার। এ লক্ষ্যে মোট ২৭ হাজার সামরিক বাহিনী ও উদ্ধারকর্মীকে ত্রাণ কার্যক্রমে মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে।

ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত থেকে বাঁচতে সাত মিলিয়নেরও বেশি লোককে ঘরত্যাগের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। তবে এদের মধ্যে মাত্র পঞ্চাশ হাজার আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত মাসেও জাপানের কয়েকটি অঞ্চলে ফেদাই নামে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিছড় আঘাত হেনেছিল। এতে প্রায় ত্রিশ হাজার ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছিল। যেগুলোর বেশির ভাগই এখন পর্যন্ত মেরামত করা হয়নি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত