র‌্যাগিং বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৫৫ এএম

সব সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের রাজনীতি  বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আরজি  জানানো হয়েছে আবেদনে।

গতকাল রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেন। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের বেঞ্চে আজ (গতকাল) আবেদনটির ওপর শুনানির জন্য উপস্থাপন করেছিলাম। আগামীকাল (আজ) কার্যতালিকায় এলে এর ওপর শুনানি হতে পারে।’ 

রিটকারী আইনজীবী আরও জানান, আবেদনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ে (বুয়েট) ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্যাতনে নিহত ছাত্র আবরার ফাহাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে ও বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে র‌্যাগিং বা শিক্ষার্থীদের  নির্যাতন বন্ধের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের অঙ্গ-সংগঠনের রাজনীতি করা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র‌্যাগিংয়ের নামে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধে কেন পদক্ষেপ নেওয়া হবে না এ মর্মে রুল চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রাজনৈতিক বিবেচনায় উপাচার্য (ভিসি) ও শিক্ষক নিয়োগ বন্ধের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।  

অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ বলেন, বুয়েটের ছাত্র আবরারকে হত্যার  ঘটনার পর বুয়েটে শিক্ষক ও ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও এ ধরনের রাজনীতি বন্ধ করা উচিত।

তিনি জানান, সংবিধানের ৭, ২৬, ২৭, ২৮, ৩১ ও ৪০ অনুচ্ছেদ এবং  সংবিধানের ঘোষণাপত্র অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের অঙ্গ-সংগঠন হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও ছাত্রদের রাজনীতি করা আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ও বেআইনি।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে র‌্যাগিংয়ের নামে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা জুনিয়র শিক্ষার্থীদের অকথ্য নির্যাতন করে। এটি সংবিধানের ১১, ৩১, ৩২, ৩৪, ৩৫ (৫), ৩৬, ৩৮, ৩৯ ও ৪০ অনুচ্ছেদের যেমন পরিপন্থী তেমনি সংবিধানের ঘোষণাপত্রের লঙ্ঘন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত