মুক্ত মঞ্চে জমেছে গঙ্গা যমুনা উৎসব

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০১:৫৭ এএম

রাজধানীর ছয়টি ভেন্যুতে চলছে গঙ্গা যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় নাটকের মঞ্চায়ন শুরু হলেও বিকেল সাড়ে ৪টা থেকেই মিলনায়তনের বাইরের উন্মুক্ত মঞ্চে শুরু হয় গান, আবৃত্তি, নাচ, পথনাটক, মূকাভিনয়সহ নানা পরিবেশনা। গতকাল মঙ্গলবার উৎসবের পঞ্চম দিন জাতীয় নাট্যশালার সামনের উন্মুক্ত মঞ্চে শিল্পীরা পরিবেশন করেন নৃত্য, আবৃত্তি। বিকেল থেকেই নাট্যশালার সামনে দর্শকের ভিড় দেখা যায়। সেখানেই কথা হয় উৎসব আহ্বায়ক গোলাম কুদ্দুছের সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এবারের উৎসবে শতাধিক সংগঠনের তিন হাজারেরও বেশি শিল্পী অংশ নিচ্ছেন। ভারতের চারটি এবং ঢাকা ও বিভিন্ন জেলা শহরের ৪০টি নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। প্রতিদিনই ছয়টি ভেন্যুতে হাজারেরও বেশি দর্শক অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন।’

দশ দিনব্যাপী উৎসবে গতকাল পঞ্চম দিনের সন্ধ্যায় মহিলা সমিতি মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় থিয়েটার ফ্যাক্টরির নাটক ‘আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে’। এদিন নাটকটির অষ্টম মঞ্চায়ন হয়। ভারতীয় লেখক মোহন রাকেশের রচনা থেকে এটি অনুবাদ করেছেন অংশুমান ভৌমিক। মঞ্চে নির্দেশনা দিয়েছেন অলোক বসু। অন্যদিকে জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে থিয়েটার নাট্যদল পরিবেশন করে ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে আরশীনগর মঞ্চস্থ করে ‘রহু চণ্ডালের হাড়’, স্টুডিও থিয়েটার মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘মেঘ’।

কবি কালিদাসকে অবলম্বন করে রচিত হয়েছে ‘আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে’। এ নাটকে কবি কালিদাসের জীবনের এক বিচিত্র পর্ব বিধৃত হয়েছে। একজন কবি থেকে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে কালিদাসের আবির্ভাব এবং শেষমেশ সবকিছু ছেড়ে কবিতার কাছে ফিরে আসা এ নাটকের মূল উপজীব্য। প্রেম ও প্রকৃতি কী চমৎকারভাবে কবি কালিদাসের সৃজনশীলতাকে উসকে দিয়েছে তারই এক অনুপম আখ্যান ‘আষাঢ়স্য প্রথম দিবসে’। এ নাটকের কেন্দ্রে আছে মল্লিকা নামের এক নারী। যার ভালোবাসা-অনুপ্রেরণা-ত্যাগে কালিদাস বিকশিত হতে পেরেছিলেন। পেয়েছিলেন যশ-খ্যাতি ও ক্ষমতা। ক্ষমতার সঙ্গে সৃজনশীলতার যে দ্বন্দ্ব এবং সেই দ্বন্দ্ব থেকে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা, কবিতার কাছেই কালিদাসের নিজেকে উৎসর্গ করার আগ্রহÑ তা হৃদয়স্পর্শীভাবে উঠে এসেছে এ নাটকে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত