প্রতিবেশীরাই বিপদে-আপদে সবচেয়ে আগে এগিয়ে আসে। প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকলে নিরাপত্তার বোধ বৃদ্ধি পায় এবং মানসিকভাবে ভালো থাকা যায়। কিন্তু এখন প্রতিবেশীদের সঙ্গে আমাদের দূরত্ব বেড়েই চলেছে। এটি আমাদের সমাজবিচ্ছিন্ন করে মানসিক চাপ ও একাকিত্ব বাড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ প্রতিবেশীদের কাছে প্রিয় হতে পারলে এক ধরনের মানসিক তৃপ্তি পাওয়া সম্ভব। তাই আসুন ঝালিয়ে নিই প্রিয় প্রতিবেশী হওয়ার কিছু কৌশল। জানালেন ফারাহ বিলকিস
শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময়
প্রতিবেশী অপরিচিত হলে পরিচিত হোন। নতুন কোনো প্রতিবেশী এলে তাকে স্বাগত জানান। প্রতিবেশীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করুন ও বিনয়ের সঙ্গে কথা বলুন। সদ্য বাসা বদল করে আসা ক্লান্ত প্রতিবেশীদের একটু লেবুর শরবত দিয়ে হালকা আপ্যায়ন করলে তাদের শরীর ও মন জুড়িয়ে যাবে এবং আপনাদের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করবে।
অভিনন্দন জানান
প্রতিবেশীর ভালো কোনো খবর জানলে অভিনন্দন জানান। আপনার খুশি ব্যক্ত করুন।
অসুবিধা ঘটাবেন না
প্রতিবেশীর সমস্যা হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকুন। আবর্জনা, পানি, থুথু, চুন, পানের পিক ইত্যাদি যথাস্থানে ফেলুন। আপনাদের কোনো অনুষ্ঠান বা অন্য কোনো কারণে উচ্চ শব্দ অবশ্যম্ভাবী হলে তাদের আগেই জানান ও অগ্রিম ক্ষমা চান। কখনো কমনস্পেস অপরিস্কার করে রাখবেন না।
ঝগড়া নয় সমাধান করুন
প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝগড়া করবেন না। দূর থেকে তীর্যক কথাও বলবেন না। কোনো সমস্যা হলে তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করুন।
নিরাপত্তা
প্রতিবেশীদের একে অপরের নিরাপত্তার দিকে লক্ষ রাখাটা খুবই জরুরি। সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন আশঙ্কা দেখলে প্রতিরোধের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নিন।
দুঃখ-শোকে পাশে থাকুন
যেকোন ধরনের বিপদে প্রতিবেশী পাশে থাকুন। সবসময় খোঁজ খবর রাখুন। আপনি কোন ধরনের সাহায্য করতে পারবেন কিনা জেনে নিন।
অসুস্থ্ প্রতিবেশীকে দেখতে যান। কেউ মারা গেলে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ভূমিকা রাখুন। প্রতিবেশীর দুঃখে তাদের পাশে থাকুন ও সাহস দিন।
আদান-প্রদান করুন
প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করতে হলে তাদের সঙ্গে আদান-প্রদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভালো রান্না হলে নিকট প্রতিবেশীকে পাঠাতে পারেন। বিভিন্ন উপলক্ষে তাদের উপহার দিন বা দাওয়াত করুন। কেউ দাওয়াত দিলে তা গ্রহণ করুন।
সহযোগিতার হাত বাড়ান
প্রতিবেশীর প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিন ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। তবে রোজ রোজ অবান্তর সহযোগিতা চাইলে তাতে না বলতেও শিখুন।
পরচর্চা করবেন না
কোনো প্রতিবেশীর দোষত্রুটি অন্যদের কাছে না বলে তার সঙ্গেই আলাদা ভাবে আলোচনা করুন। এ ক্ষেত্রে তার ইতিবাচক দিকগুলোও তুলে ধরে প্রশংসা করুন।
