কেন নোবেলজয়ী এস্থার ডুফোর পরিচয় হবে তিনি অভিজিতের স্ত্রী?

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৪০ পিএম

বৈশ্বিক দারিদ্র্য দূরীকরণে পরীক্ষামূলক গবেষণার জন্য ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেলখ্যাত ‘দ্য সেভেরিজেস রিক্সব্যাংক প্রাইজ ইন ইকোনমিক সায়েন্সেস ইন মেমোরি অব আলফ্রেড নোবেল’ জিতেছেন বাঙালি অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফরাসি এস্থার ডুফো ও যুক্তরাষ্ট্রের মাইকেল ক্রেমার।

এদের মধ্যে অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ও এস্থার ডুফো স্বামী-স্ত্রী।

তবে ভারতের অনেক গণমাধ্যমে এস্থার ডুফোকে অভিজিতের স্ত্রী পরিচয়ে শিরোনাম করে তাদের নোবেল জয়ের সংবাদ পরিবেশিত হয়। 

যেমন, হিন্দুস্থান টাইমস'র শিরোনাম ছিল, ‘ভারতীয় বংশোদ্ভূত অভিজিত ব্যানার্জী, স্ত্রী এস্থার ডুফো অর্থনীতিতে নোবেল জিতেছেন।’

একইভাবে ফার্স্টপোস্ট’র শিরোনাম ছিল, ‘ভারতীয়-আমেরিকান অভিজিত ব্যানার্জী, স্ত্রী এস্থার ডুফো এবং মাইকেল ক্রেমার ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে নোবেল জিতলেন।’

তবে ফরাসি সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছেন এস্থার। সেখানে অভিজিতকে তার স্বামী উল্লেখ করে শিরোনাম হয়নি বলে জানায় ‘দ্য সোয়াডেল’ নামে একটি ভারতীয় ম্যাগাজিন। 

প্যারিসে ‘একল নর্ম্যাল সপোরিয়র’ থেকে অর্থনীতি ও ইতিহাসে একসঙ্গে ডিগ্রির পর ১৯৯৯ সালে ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে পিএইচডি সম্পন্ন করেন এস্থার। ২৭ বছর বয়সে এমআইটি অধ্যাপক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেন এবং অভিজিৎ ববন্দ্যোপাধ্যায়সহ গড়ে তোলেন ‘আব্দুল লতিফ জামিল পোভার্টি একশন ল্যাব’। 

এস্থারের কাজ মূলত ডেভেলপমেন্ট ইকোনোমিকস নিয়ে। এই কাজের জন্য তাকে ২০১১-২০১২ সালের মধ্যে অনেকবারই আসতে হয়েছে উত্তর ভারতের প্রান্তিক বিভিন্ন জায়গায়। তার ফিল্ড স্টাডির অন্যতম ক্ষেত্র ছিল ভারত ও আফ্রিকা।

তাকে অভিজিতের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সমালোচনা করে ভারতের আরেকটি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, ‘‘বাঙালি হিসেবে আমরা অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নোবেলপ্রাপ্তি নিয়ে গর্বিত, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সে-বিষয়ে অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসও স্বাভাবিক। কিন্তু এই উচ্ছ্বাসের বশে এস্থারের সাফল্যকে কোথাও ছোট করে দেখছি না তো আমরা? ‘অভিজিৎবাবুর স্ত্রী’ – এই পরিচয়ে আবদ্ধ হয়ে যাচ্ছেন না তো নোবেলজয়ী এ অর্থনীতিবিদ? পাশাপাশি কেউ কেউ এই মন্তব্যও করছেন, বিদেশি স্ত্রী হওয়ার দৌলতেই নোবেলপ্রাপ্তি অভিজিৎবাবুর। এসব সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে আর কবে বেরিয়ে আসব আমরা? ব্যক্তিগত সম্পর্ক যে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সম্মান প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকাই রাখে না, এটা বোঝার মতো পরিণত হওয়া প্রয়োজন এই জাতির। শীঘ্রই। নইলে দীর্ঘদিন অন্তর এমন একেকটি নোবেলপ্রাপ্তিতে সাময়িক উচ্ছ্বাসই ভেসে উঠবে, অভ্যাসে পরিণত হবে না এই অর্জন।’’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত