ডেঙ্গুতে মৃত্যু একশ ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ডেঙ্গুতে ১০৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। এর ফলে দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম ডেঙ্গুতে এত বেশিসংখ্যক মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। এর আগে ২০০০ সালে ডেঙ্গুতে সর্বোচ্চ ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। গত মঙ্গলবার সে রেকর্ড ভেঙে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এখন পর্যন্ত ২৪৮টি মৃত্যুর তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে ১৬৬টি মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনা করে ১০৪ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। এখনো ৮২টি মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনার বাকি। অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ‘মৃত্যু প্রতিবেদন’ থেকে জানা গেছে, এ বছর ডেঙ্গুতে এপ্রিলে ২ জন, জুনে ৬ জন ও জুলাইয়ে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়। এদের প্রায় সবাই রাজধানীতে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং রাজধানীতেই মৃত্যু হয়েছে। আগস্টে ডেঙ্গু রাজধানীর বাইরে ছড়িয়ে পড়লে আক্রান্তের সংখ্যা জুলাইয়ের চেয়ে তিনগুণ বেড়ে যায়। বাড়ে মৃত্যুর সংখ্যাও। এখন পর্যন্ত আগস্টে এ মৌসুমের সর্বোচ্চ ৫৭ জন মারা গেছেন। পরে গত মাসে মারা যান ৪ জন। অক্টোবরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর তথ্য এখনো পর্যালোচনা শেষ করতে পারেনি অধিদপ্তর।
সরকারের রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) বিশেষজ্ঞরা জানান, তাদের কাছে এখন পর্যন্ত যতগুলো মৃত্যুর তথ্য এসেছে, তাদের মধ্যে রাজধানী ও রাজধানীর বাইরে প্রায় সমান। এর অন্যতম কারণ, আগে সাধারণত ডেঙ্গু রাজধানীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকত। ঢাকার বাইরে গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে সামান্য সংখ্যক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলেও সেখানে এডিসের লার্ভা ছিল না। কিন্তু এ বছর ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস অ্যালবোপিকটাস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ঢাকার বাইরে স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।
ডেঙ্গুতে শতাধিক মৃত্যু হলেও আতঙ্কের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংখ্যায় অনেক হলেও এবারে মোট আক্রান্তের ১ শতাংশের ১০ ভাগের একভাগ রোগী মারা গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়া, বাসায় বা অন্য কোথাও চিকিৎসা নেওয়া, অর্থাৎ কোনো রোগে বিভিন্ন স্তরের মোট আক্রান্তের ১ শতাংশ রোগী মারা গেলে, সেটা উদ্বেগজনক। তেমন পরিস্থিতি হয়নি।
