জমকালো আয়োজনে সোমবার রাতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ভারত-বাংলাদেশ ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস (বিবিএফএ)। এই উপলক্ষে বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারের নবরাত্রি মিলনায়তনে দুই বাংলার তারার মেলা বসেছিল।
উৎসব শুরু হয় সন্ধ্যা সাতটার দিকে, শেষ হয় রাত আড়াইটা নাগাদ।
পুরস্কার পর্বের শুরুতেই চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখায় বাংলাদেশের আনোয়ারা বেগম ও ভারতের রঞ্জিত মল্লিককে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। তাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন যথাক্রমে গৌতম ঘোষ ও প্রসেনজিৎ।
আজীবন সম্মাননায় ভূষিত আনোয়ারা বেগম বলেন, “দুই বাংলা মিলিয়ে এত এত তারকা থাকতে আমাকে আজীবন সম্মাননা দেওয়া হবে এটা কখনো ভাবিনি। সৃষ্টিকর্তার কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা।”
অন্যদিকে রঞ্জিত মল্লিক বলেন, “বাইশ কোটি মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে। তাদেরই এ আয়োজন প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ আয়োজন যেন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে। যৌথভাবে সিনেমা নির্মাণের যে প্রয়াস চলছে, তা যেন আরও বেগবান হয়।”
অনুষ্ঠানে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জেতে বাংলাদেশের ‘দেবী’ ও ভারতের ‘নগর কীর্তন’। বছরের জনপ্রিয় নায়িকা বিভাগে পুরস্কার পান ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও পরী মনি। সেরা অভিনেত্রী হন জয়া আহসান ও পাওলি দাম। সেরা অভিনেতার পুরস্কার যায় সিয়াম আহমেদ ও প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ঝুলিতে। বছরের জনপ্রিয় অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন শাকিব খান ও জিৎ।
সেরা চিত্রনাট্যকারের পুরস্কারে ভূষিত হন বাংলাদেশের ফেরারী ফরহাদ ও ভারতের পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। চিত্রগ্রহণে পুরস্কার পান বাংলাদেশের কামরুল হাসান খসরু ও ভারতের গৈরিক সরকার। সম্পাদনায় পেয়েছেন তৌহিদ হোসেন চৌধুরী ও সংলাপ ভৌমিক। সেরা সংগীত পরিচালক হয়েছে হৃদয় খান ও বিক্রম ঘোষ।
সেরা গায়ক হয়েছেন ইমরান ও অনির্বাণ ভট্টাচার্য। বাংলাদেশ থেকে যৌথভাবে সেরা গায়িকার পুরস্কার জেতেন সোমনুর মনির কোনাল ও ফাতেমাতুজ জোহরা ঐশী এবং ভারত থেকে নিকিতা নন্দী। সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হয়েছেন ইমন ও অর্জুন চক্রবর্তী। পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার উঠেছে জাকিয়া বারী মম ও সুদীপ্তা চক্রবর্তীর হাত।
বাংলাদেশ থেকে বিশেষ জুরি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তাসকিন রহমান ও বিদ্যা সিনহা মিম এবং ভারতের রুদ্রনীল রায় ঘোষ, আবীর চ্যাটার্জি ও নবনী। শ্রেষ্ঠ পরিচালক বাংলাদেশের নাসির উদ্দিন ইউসুফ ও ভারতের সৃজিত মুখার্জি। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র বাংলাদেশের ‘পাসওয়ার্ড’ ও ভারতের ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’।
পুরস্কার ফাঁকে ফাঁকে নাচ, গান পরিবেশন করেন বাংলাদেশ ও ভারতের জনপ্রিয় শিল্পীরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুরিবোর্ডের সদস্য বাংলাদেশের আলমগীর, কবরী, ইমদাদুল হক মিলন, খোরশেদ আলম খসরু ও হাসিবুর রেজা কল্লোল এবং ভারতের গৌতম ঘোষ, ব্রাত্য বসু, গৌতম ভট্টাচার্য, অঞ্জন বোস ও তনুশ্রী চক্রবর্তীর হাতে শুভেচ্ছা ক্রেস্ট তুলে দেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। উত্তরীয় পরিয়ে দেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ।
এই আয়োজনের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ভারতের জি-বাংলা ও বাংলাদেশের ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে আছে এটিএন বাংলা ও গানবাংলা টেলিভিশন। ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে আছে ওয়ান মোর জিরো। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেছেন বাংলাদেশের শাহরিয়ার নাজিম জয় এবং কলকাতার মীর আফসার আলী ও গার্গি রায় চৌধুরী।
