টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নিরীক্ষা দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকার মধ্যে গ্রামীণফোন কত টাকা দিতে পারবে তা জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। পাওনা আদায়ে হাইকোর্টের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে বিটিআরসির লিভ টু আপিলের শুনানি আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি রেখে গতকাল বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেয় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ। এ সময়ের মধ্যে গ্রামীণফোনের আইনজীবীদের এ বিষয়ে জানাতে বলা হয়েছে।
আদালতে গ্রামীণফোনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী এ এম আমিনউদ্দিন ও শেখ ফজলে নূর তাপস। বিটিআরসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মাহবুবে আলম ও খন্দকার রেজা-ই-রাকিব। ব্যারিস্টার রেজা-ই-রাকিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গ্রামীণফোন কত দিতে পারবে তা সর্বোচ্চ আদালত জানতে চেয়ে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি রেখেছেন।’
গত ১৭ অক্টোবর এক আদেশে গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির ওই পাওনা আদায়ের ওপর দুই মাসের অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ আদেশের বিরুদ্ধে বিটিআরসি গত রবিবার আপিল বিভাগে আবেদন করে।
বিটিআরসির দাবি, যন্ত্রপাতি আমদানিসহ বিভিন্ন বিষয়ে গ্রামীণফোনের কাছে নিরীক্ষা আপত্তি দাবির ১২ হাজার ৫৭৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং রবির কাছে ৮৬৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। বেশ কয়েক দফা চেষ্টায় সেই টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে দুই অপারেটরকে লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দিয়ে নোটিস পাঠানো হয়। তবে টাকার অঙ্ক নিয়ে আপত্তি রয়েছে গ্রামীণফোন ও রবির।
বিটিআরসি সালিশের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তিতে রাজি না হওয়ায় দেওয়ানি আদালতের দ্বারস্থ হয় ওই দুই অপারেটর। এছাড়া অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের উদ্যোগে এ বিষয়ে সমাধান খুঁজতে বৈঠকে সমঝোতার উদ্যোগ হলেও তা ভেস্তে যায়।
এরপর নিম্ন আদালতে টাইটেল স্যুট (স্বত্বের মামলা) করে গ্রামীণফোন। ওই মামলার অধীনেই গ্রামীণফোন বিটিআরসির পাওনা আদায়ের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করে, যা গত ২৮ আগস্ট নিম্ন আদালত খারিজ করে দেয়। পরে ওই খারিজাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করে গ্রামীণফোন।
