ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন নিজেই বলেছিলেন, শুরুতে বেশ রাগান্বিত ছিলেন তিনি।
বুধবার রাতে আলোচিত সংবাদ সম্মেলনে পাপন বলেন, ‘আমার কাছে অত্যন্ত ভালো মনে হয়েছে (আলোচনা)। ওদের কাছে মনে হবে না। কারণ প্রথম দিকে আমার কিছুটা রাগ ছিল। কিন্তু পরের দিকে কোনো রাগ ছিল না। আমার মনে হয় আলোচনা ভালো হয়েছে।’
অর্থাৎ বিসিবি-ক্রিকেটারদের আলোচনার পর্বটা যে বিসিবি প্রধানের রাগ-ক্ষোভের মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছিল তা পরিষ্কার। ক্রিকইনফো তাদের প্রতিবেদনে বলছে, বিসিবি প্রধান শুরুতেই মেহেদী হাসান মিরাজকে কড়া ভাষায় কথা শুনিয়েছেন। এমনকি মিরাজের নম্বরও নিজের মোবাইল থেকে ডিলিট করে দেওয়ার কথা বলেন।
নাজমুল হাসান পাপন বৈঠকের শুরুতেই মিরাজকে ধমকে বলেন, ‘মিরাজ, আমি তোমার জন্য কী না করেছি! অথচ তুমি আমার ফোনই ধরো নি। আজকের পর থেকে আমার ফোন থেকে তোমার নম্বর ডিলিট করে দেব আমি।’
১১ দফা দাবিতে গত সোমবার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন জাতীয় দল ও ঘরোয়া ক্রিকেটের শীর্ষ তারকারা। মঙ্গলবার বিসিবি সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করে। যেখানে বেশ কঠোরই মনে হয়েছিল বিসিবিকে।
তবে বুধবার অবশ্য ক্রিকেটারদের বৈঠকের আহ্বান জানায় বিসিবি। ক্রিকেটাররা শুরুতে বৈঠকে সাড়া না দিয়ে গুলশানের একটি হোটেলে বৈঠক করে। পরে সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরে নতুন দুই দাবি।
পরে একই দিন রাতে বিসিবির ডাকে সাড়া দিয়ে আলোচনার জন্য যায় মিরপুরে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড শুরুর ১১ দাবির বেশির ভাগই মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন ক্রিকেটারদের। নতুন দুই দাবি নিয়ে পরে আলোচনা হবে বলে জানান। যে আশ্বাসের ভিত্তিতে ধর্মঘটও প্রত্যাহার করে নেয় ক্রিকেটাররা।
ক্রিকইনফোকে এক ক্রিকেটার বলেছেন মিরাজের বিষয়টিতে ঘাবড়ে গিয়েছিলেন তারা, ‘মিরাজের ঘটনায় আমরা চমকে গিয়েছিলাম। যেভাবে বৈঠক শুরু হয়েছিল, সেখানে আমাদের বেশি কিছু বলার ছিল না।’
পরে আলোচনায় সাকিবই তুলে ধরেছেন সব পয়েন্ট, ‘সাকিবই সব পয়েন্ট সামনে নিয়ে এসেছিল। বাকি আমাদের কারোরই দরাদরি করার মানসিকতা ছিল না।’
তবে দাবি মেনে নেওয়া হলেও ক্রিকেটারদের মধ্যে এখনো রয়েছে সংশয়। সেই ক্রিকেটার ক্রিকইনফোকে এভাবে বললেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে সব দাবি মেনে নেওয়া হবে। কিন্তু আমরা এখনো ধোঁয়াশায় আছি। আমরা সত্যিই জানি না যে, ঠিক কত টাকা বাড়বে। ধরা যাক ন্যাশনাল ক্রিকেট লিগ, সেখানেই বা কত টাকা বাড়বে আমাদের। কোনো পরিষ্কার নির্দেশিকা নেই।’
