মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় ফেনীর বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়াদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি) ও আপিলের নথি হাইকোর্টে এলে তা দ্রুত শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এছাড়া নুসরাতের পরিবারের সদস্যদের যতদিন নিরাপত্তা প্রয়োজন, ততদিনই তা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। নুসরাত হত্যা মামলার রায়ে গত বৃহস্পতিবার ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে গতকাল শুক্রবার গুলশানে নিজের বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
ফাঁসির দণ্ড পাওয়া আসামিদের স্বজনরা নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে এমন তথ্য তুলে ধরে তার বক্তব্য জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, ‘নুসরাতের পরিবারকে যতদিন পর্যন্ত নিরাপত্তা দেওয়া প্রয়োজন, ততদিন নিরাপত্তা দেওয়া হবে। তাদের যদি আসামিপক্ষ বা কুচক্রী মহল হুমকি দিয়ে থাকে তাহলে এরও শক্ত বিচার করা হবে।’
দ্রুততম সময়ে রায় ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আদালত এটির গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছেন এবং বুঝতে পেরেছেন যে বাংলাদেশের জনগণ ও জনগণের নেতা শেখ হাসিনা চান সব আইনি প্রয়োজন সম্পন্ন করে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা হোক।’
হাইকোর্টে এ মামলার বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘যত কম সময়ে পারা যায় মামলা প্রস্তুত করে হাইকোর্টে বিচারের জন্য তৈরি করা হবে।’
নুসরাত হত্যা মামলার মতো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা অসংখ্য মামলার বিচারকাজ দ্রুত নিষ্পত্তি হবে কি নাÑ এমন প্রশ্নের উত্তরে আনিসুল হক বলেন, ‘এখন বিচারিক আদালতের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সব সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। আদালতে বিচার করার পরিবেশ এসেছে। তাই এসব মামলার বিচার তাড়াতাড়ি হবে বলে মনে করি।’ এছাড়া বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচারিক কাজ করতে আদালতের যতটুকু সময় লাগবে সে সময় নিয়েই সুষ্ঠু বিচার নিষ্পন্ন হবে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিক সাগর-রুনি দম্পতি এবং মিতু ও তনু হত্যা মামলার নিষ্পত্তি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘মামলার অভিযোগপত্র এখনো দাখিল হয়নি, কীভাবে বলে সে মামলা তাড়াতাড়ি শেষ করতে। তদন্তই শেষ হয়নি। তদন্তের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে চাই না। যেসব মামলার আসামি খুঁজে পাওয়া কঠিন, সেগুলোর তদন্ত করতে সময় লাগে।’
