চিলির মন্ত্রিসভা ভেঙে দিলেন প্রেসিডেন্ট পিনেরা

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৯, ০৩:০০ এএম

চিলি সরকারের মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট পিনেরা সেবাস্তিয়ান। গণবিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়ে নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে এএফপি।

মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার নোটিসে পিনেরা বলেন, ‘নতুন দাবিগুলোর মুখে, মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনে আমি সব মন্ত্রীকে নোটিস দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সব মন্ত্রীকে আমি নতুন সরকার গঠনের উদ্দেশ্যে পদত্যাগ করতে বলছি। আমরা নতুন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। এক সপ্তাহ আগের চিলির চেয়ে আজকের চিলি সম্পূর্ণ ভিন্ন।’ তবে মন্ত্রিসভা ভেঙে দিলেও কোন প্রক্রিয়ায় সরকার চলবে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি পিনেরা।

চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে গত শুক্রবার ১০ লাখেরও বেশি মানুষ শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে পিনেরা জানান, তিনি রাস্তা থেকে ওঠা গণদাবি শুনতে পেয়েছেন।

মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি গত সপ্তাহে চিলির বিভিন্ন শহরে জারি করা কারফিউ তুলে নেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি। কারফিউর পাশাপাশি জারি করা জরুরি অবস্থা প্রত্যাহারেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা দাবি জানিয়ে আসছে।

সান্তিয়াগোর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এরিক সিলভা এএফপিকে বলেন, ‘পিনেরা মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছেন, কারণ তিনি ফাঁদে আটকে গেছেন। মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ায় ভালো হবে। কিন্তু যেভাবে তারা এই বিক্ষোভের সুরাহা করতে চাইছেন তাতে লাভ হবে না।’

দেশটিতে সপ্তাহখানেক আগে শুরু হওয়া এ অসমতাবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত ১৭ জন নিহত ও কয়েকশ আহত হয়েছে। দাঙ্গা পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের কয়েক দিনের ধারাবাহিক সংঘাত ও সহিংসতার পর গত শুক্রবার ১০ লাখের বেশি মানুষ সান্তিয়াগোতে জমায়েত হন। এ সংখ্যা চিলির মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশের বেশি। বিক্ষোভের আয়োজকরা বলছেন, এদিন রাজধানী যত মানুষের জমায়েতের সাক্ষী হয়েছে, ১৯৯০ সালে গণতন্ত্রে উত্তরণের পর থেকে তা আর কখনই হয়নি।

মেট্রোর বাড়তি ভাড়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ পরে অসমতাবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। সান্তিয়াগোর পাশাপাশি অন্যান্য শহরেও এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। সরকার পরে মেট্রোর ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটলেও বিক্ষোভকারীদের দমানো যায়নি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি অবস্থার পাশাপাশি অনেক শহরে কারফিউ জারি করে। বিক্ষোভ মোকাবিলাসহ জ্বালাও-পোড়াও ও লুটপাট ঠেকাতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত