যৌন হয়রানির লজ্জা সইতে না পেরে চুয়াডাঙ্গায় আমিমা খাতুন ঐশী (১৩) নামে এক স্কুল ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার রাতে বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে স্থানীয় এক বখাটে বাড়িতে ঢুকে ওই স্কুল ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করে বলে পরিবারের অভিযোগ। এই ঘটনার পর রাতেই লজ্জায় ওই ছাত্রী বিষ পান করে বলে দাবি স্কুল ছাত্রীর পরিবারের। রোববার রাজশাহী মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় রবিবার রাতে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। পুলিশ রাতেই অভিযুক্ত বখাটে ফরহাদ হোসেনকে আটক করেছে।
পুলিশ জানায়, ঝিনাইদহ জেলার হরিনাকুন্ড উপজেলার আবদুল্লাহ আল মামুনের মেয়ে আমিমা খাতুন ঐশী দীর্ঘ ৬ বছর ধরে চুয়াডাঙ্গা শহরের আরামপাড়ার বাসিন্দা তার দুলাভাই মুজাহিদুল ইসলাম জোয়ার্দ্দারের বাড়িতে থাকতেন। শনিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে পাশের দোকান কর্মচারী ফরহাদ হোসেন ওই বাড়িতে ঢুকে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এই সময় ওই শিক্ষার্থীর চিৎকারে স্থানীয় এক নাইটগার্ড ছুটে আসলে বখাটে ফরহাদ পালিয়ে যায়।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ জানান, স্কুল ছাত্রীর দুলাভাইয়ের বর্ণনা মতে এ ঘটনার পর লজ্জায় রাতেই ঐশী বাড়িতে থাকা বিষ পান করে। পরে তাকে প্রথমে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও পরে তাকে রাজশাহী মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে তার মৃত্যু হয়।
চুয়াডাঙ্গা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কলিমুল্লাহ জানান, এ ঘটনায় রোববার নিহত স্কুলছাত্রীর দুলাভাই মুজাহিদুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় আসামি করা হয় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হানুড়বাড়াদী গ্রামের আশানুর রহমানের ছেলে দোকান কর্মচারী ফরহাদ হোসেনকে। এই মামলার পর পুলিশ রাতেই তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।
