পরিবেশ রক্ষায় অভিনব পদক্ষেপ উদ্যোগ নিয়েছে টোকিও অলিম্পিক কমিটি। ইলেকট্রনিক বা ই-বর্জ্য থেকে ধাতু নিষ্কাশন করে তা থেকে তৈরি স্বর্ণ-রৌপ্যর মেডেলই তুলে দেওয়া হবে জয়ী খেলোয়াড়দের হাতে।
২০২০ সালের ২৪ জুলাই থেকে জাপানের রাজধানী টোকিওতে শুরু হবে অলিম্পিক গেমস। দেশ-বিদেশের খেলোয়াড়রা নামবেন পদকের লড়াইয়ে। সেইসব খেলায় যারা প্রথম তিনটি স্থান দখল করবেন, তাদের স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জের পদক দেওয়া হবে।
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে ৫ হাজার পদক লাগবে। কিন্তু স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ দিয়ে ওই বিপুল সংখ্যক মেডেল তৈরি করার খরচ অনেক বেশি। তাই ২০১৭ সালে উদ্যোক্তারা পরিকল্পনা নিয়েছিলেন, বৈদ্যুতিক বর্জ্য থেকেই মেডেল তৈরির স্বর্ণ-রৌপ্য সংগ্রহ করা হবে। এর ফলে মেডেল তৈরির খরচও কমানো যাচ্ছে। পরিবেশ-বান্ধব প্রকল্প হিসেবে ই-বর্জ্যেরও সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে।
২০১৭ সালের প্রথম দিকেই ‘টোকিও ২০২০ মেডেল প্রকল্প’ চালু করা হয়। সেখানে দেশের জনগণের কাছে আবেদন করা হয়, তাদের ব্যবহৃত বাতিল হওয়া ছোট ছোট বৈদ্যুতিক সামগ্রীগুলি অলিম্পিক উদ্যোক্তাদের দিয়ে দিতে। ২০১৭ সালে ১ এপ্রিল থেকে এই ই-বর্জ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করা হয়েছিল। মূলত মোবাইল ফোনকেই বেছে নেওয়া হয় এই প্রকল্পের আওতায়।
উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাপানের সাধারণ মানুষ বিপুল আগ্রহ নিয়ে এই প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ই-বর্জ্যগুলি সংগ্রহ করা হয়। বর্জ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষ ডাস্টবিনও তৈরি করা হয়েছিল। সেখান থেকেও প্রচুর ই-বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। একইসঙ্গে একটি বেসরকারি মোবাইল প্রস্তুতকারী সংস্থাকে এই কাজে নিযুক্ত করা হয়।
অলিম্পিক কমিটি জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত ই-বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৯৮৫ টন ই-বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। এছাড়াও বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের বিভিন্ন আউটলেটের মাধ্যমে ৬২ লক্ষ ১০ হাজার মোবাইল সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন এসব ই-বর্জ্য থেকে স্বর্ণ, রৌপ্য ও ব্রোঞ্জ সংগ্রহ করা হবে।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী তৈরিতে এই সমস্ত পদার্থগুলি খুব সামান্য পরিমাণ হলেও ব্যবহার হয়ে থাকে। সেগুলিই সংগ্রহ করা শুরু হয়। ইতিমধ্যে সেই কাজ প্রায় শেষের পথে। সব মিলিয়ে এসব বর্জ্য থেকে ৩২ কেজি স্বর্ণ, ৩৫০০ কেজি রৌপ্য ও ২২০০ কেজি ব্রোঞ্জ উদ্ধার করা হয়েছে।
