এতিমখানায় ৭ বছরের শিশুকে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৫১ এএম

ঢাকার কেরানীগঞ্জে শিক্ষকের নির্যাতনে মো. শুভ হাসান নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। ওই ঘটনায় শুভর খালার করা মামলায় শিক্ষক হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল মোক্তাদিরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মোক্তাদির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন। নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার দোলেশ্বর গ্রামের ইসলামিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায়। বিকেল ৪টার আগে মাঠে খেলতে যাওয়ায় ওইদিন শুভকে নিজের কক্ষে ধরে এনে বেধড়ক পেটান শিক্ষক মোক্তাদির। এতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে ৭ বছরের শুভ। তবে কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা না দিয়ে শুভকে কক্ষে রেখে আসেন মোক্তাদির। পাশাপাশি ওই কক্ষে থাকা শুভর ছোট ভাই শান্তকে বলেন, এ ঘটনা কাউকে  জানালে তাকেও মেরে মাদ্রাসা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। 

পরের দিন শনিবার সকালে শুভর অবস্থা আরও খারাপ হলে ঝুমুর আহমেদকে খবর দেওয়া হয় মাদ্রাসার পক্ষ থেকে। তাকে নেওয়া হয় স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। পরে অবস্থার অবনতি হলে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা শুভকে মৃত ঘোষণা করেন।

মাত্র ৭ বছর বয়স হয়েছিল শুভর। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ না হলে ওর জীবনের গল্পটি অন্যরকম হতে পারত। শুভর বাবা আরেক নারীকে বিয়ে করে আলাদা সংসার গড়লে মা চলে যান সৌদি আরবে। গ্রামের বাড়ি বরিশালের উজিরপুরে হলেও মা দেশ ছাড়ার আগে শুভ আর তার এক বছরের ছোট ভাই শান্তকে রেখে যান খালা ঝুমুর আহমেদের কাছে। ঝুমুর বোনের দুই ছেলেকে ভর্তি করান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার দোলেশ্বর গ্রামের ইসলামিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার নুরানি বিভাগে।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই ইমরান উকিল জানান, শুভ ও শান্ত মাদ্রাসা ভবনটির চারতলার একটি রুমে থেকে পড়াশোনা করত। গত শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিহত শুভ, শান্ত ও আরও দুজন ছাত্রকে মাদ্রাসা মাঠে খেলাধুলা করতে দেখে শিক্ষক মোক্তাদির তাদের নিজের রুমে ধরে নিয়ে আসেন। নির্ধারিত সময়ের আগে খেলতে যাওয়ার অপরাধে চারজনকেই মারধর করেন। মার খেয়ে তিনজন পালিয়ে গেলেও শুভকে আটকে রেখে আরেক দফায় পেটান।

তিনি জানান, শুভর মারা যাওয়ার খবর পাওয়ার পর স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ মাদ্রাসায় গেলে মুক্তাদির পালানোর চেষ্টাও করেন। পরে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন শুভর খালা ঝুমুর আহমেদ ।

ঝুমুর আহমেদ জানান, শুভর বাবার নাম মো. দেলোয়ার। তাদের বাড়ি বরিশালের উজিরপুর থানার শোলক গ্রামে। শুভর বাবা-মায়ের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে শুভর বাবা আরেকটি বিয়ে করেন। পরে ওদের মা দুই ছেলেকে তার কাছে রেখে সৌদি আরব চলে যান। ঝুমুর পরে ওদের লেখাপড়ার জন্য মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেন।

শান্তর বরাতে ঝুমুর বলেন, মার খেয়ে শুভর পিঠে জখম হয়ে যায়, হাতের দুটো আঙুল ভেঙে যায়। শান্ত আর শুভ যেন কাউকে কিছু না বলে সেজন্য শিক্ষক তাদের ভয়ভীতি দেখান। শনিবার গভীর রাত থেকেই শুভর অবস্থা বেশি খরাপ হয়। বারবার খিঁচুনি দিচ্ছিল তার শরীরে। তবুও বাড়িতে খবর দেওয়া হয়নি। অবস্থা যখন বেশি খারাপ হয়ে যায় তখন বাড়িতে জানায়। 

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহ জামান বলেন, হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুল মোক্তাদির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তার সর্বোচ্চ শাস্তির জন্য আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত