টেকসই পোলট্রি খাতের বড় বাধা অস্থিতিশীল বাজার

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৯, ১২:১০ এএম

পোলট্রি খাতের টেকসই হতে বড় বাধা অস্থিতিশীল বাজার। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বড় ভূমিকা রাখার সক্ষমতা থাকলেও পোলট্রি খাতের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাজার ব্যবস্থাপনা দুর্বলতার কারণে গত কয়েক বছরে হারিয়ে গেছেন প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ছোট খামারি। এর সঙ্গে রয়েছে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিম ভক্ষণের দিক দিয়ে বাংলাদেশ প্রায় আন্তর্জাতিক মানে উঠে গেছে। মুরগির মাংসের চাহিদাও যথাযথভাবে পূরণ করতে পারছে। এখন সময় এসেছে বিপণন ব্যবস্থা শক্তিশালী ও টেকসই করার ব্যাপারে মনোযোগ বাড়ানো।

কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, পোল্ট্রিপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে কেউ ওভাবে ভাবেনি। ফলে টেকসই বাজার ব্যবস্থাপনাও গড়ে ওঠেনি। এখন সময় এসেছে বাজার ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার।

পরিকল্পনা বিভাগের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রাণিসম্পদ খাত থেকে চাহিদার ৪৪ শতাংশ আমিষ পাচ্ছি। ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে চারগুণ। এখন আরও বেড়েছে। তিনি বলেন, গবেষণা ছাড়া পোল্ট্রি খাতে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। একইসঙ্গে গবেষণা ও বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জোর দিতে হবে। 

বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) তথ্য অনুসারে সারা দেশে বর্তমানে ৬৫-৭০ হাজার ছোট-বড় খামার রয়েছে। এসব খামারে প্রতিদিন মুরগির মাংসের উৎপাদন প্রায় ১ হাজার ৮৫১ টন, ডিম হয় প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ। আগে ডিম এবং ব্রয়লার মুরগি আমদানি করতে হতো। এখন তা শূন্যের কোঠায় দাঁড়িয়েছে।

গাজীপুরের খামারি আনিসুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত বছর ডিমের দাম অস্বাভাবিক হারে কমে যায়। ওই সময় অনেক খামারি লসের ধাক্কা সামাল দিতে পারেননি। ডিম বিক্রি করে মুরগির খাবারের দামও ওঠানো কঠিন ছিল। ফলে অনেকে মুরগি বিক্রি করে দেন। বাজার ব্যবস্থাপনায় একটি টেকসই ভিত্তি দরকার।  

বিপিআইসিসি সভাপতি মসিউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ খাতে আরও বিনিয়োগ বাড়াতে  হবে। পোলট্রি খাতে বিনিয়োগ অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে মাঠপর্যায়ে বীমা চালু করা জরুরি। আমরা রপ্তানির প্রস্তুতিও নিচ্ছি। এতে সরকারের সহযোগিতা দরকার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত