কক্সবাজারের টেকনাফের আলোচিত ডাকাত সরদার রোহিঙ্গা আবদুল হাকিমের মূল আস্তানার সন্ধানে হেলিকপ্টার নিয়ে অভিযান চালিয়েছে র্যাব। গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টেকনাফের ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের পাশের পাহাড় ও বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় এ অভিযান চালান র্যাব-১৫ সদস্যরা। এ সময় হেলিকপ্টার ব্যবহার করে বিভিন্ন পাহাড়ে ডাকাতদের আস্তানা ও তাদের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেন তারা।
পরে পাহাড়ে ডাকাতদের কয়েকটি আস্তানায়ও হানা দেন তারা। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা আগেই পালিয়ে যায় বলে ভাষ্য র্যাবের। ৪ নভেম্বর দৈনিক দেশ রূপান্তরে টেকনাফে মূর্তিমান আতঙ্ক হিসেবে দেখা দেওয়া এই ডাকাত সরদারকে নিয়ে র্যাবের অভিযান নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর সেখানে অভিযান চালাল র্যাব।
গতকালের অভিযানে নেতৃত্ব দেন র্যাব-১৫-এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ। তিনি দেশ রূপান্তরকে জানান, রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প লাগোয়া পাহাড়ে ডাকাত দলের সদস্যরা সাধারণ রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয়দের জিম্মি করে প্রায়ই লুটপাট চালায়। এ ছাড়া ডাকাত দলের কোনো কোনো সদস্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে রোহিঙ্গাদের বাসায় ঢুকে মালপত্র লুট ও অপহরণের ঘটনা ঘটায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। ক্যাম্পের ভেতর বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও হামলা চালায় তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে হেলিকপ্টার উড়িয়ে কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে র্যাব সদস্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্প লাগোয়া বাহারছড়া টইগ্যা পাহাড়সহ কয়েকটি পাহাড়ে অভিযান চালান। তবে এ সময় কাউকে আটক করা সম্ভব না হলেও ডাকাত দলের বিষয়ে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন র্যাবের এই কর্মকর্তা।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, রোহিঙ্গা শিবির ঘিরে ডাকাত দলের সদস্যরা সক্রিয় রয়েছে। তারা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ে অবস্থান করে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের জিম্মি করে প্রায়ই লুটপাট চালায়। ডাকাতি ছাড়াও তারা অপহরণ, ধর্ষণ, ছিনতাই ও মাদক কারবারের সঙ্গেও জড়িত। তাদের নেতৃত্বে আবদুল হাকিম ছাড়াও রয়েছে জকির, সেলিমসহ আরও কয়েকজন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোহিঙ্গা নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডাকাতরা ক্যাম্পে প্রতিদিনই অপহরণ, খুন ও ধর্ষণের মতো অপরাধ করছে। ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় হাকিম বাহিনীর অবস্থানের খবর রয়েছে। হাকিম বাহিনীর গ্রুপকে আইনের আওতায় আনলে এসব অপরাধ কমে যাবে। তবে আকাশ ও স্থলপথে র্যাবের অভিযানের সময় ক্যাম্পের লোকজন ভয়ের মধ্যে ছিল।’
অভিযানে অন্যদের মধ্যে র্যাব-১৫-এর উপ-অধিনায়ক মেজর রবিউল হাসান, সিপিএসসি কোম্পানি কমান্ডার মেজর মেহেদী হাসান, সিপিসি-১ কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মির্জা শাহেদ মাহাতাব (এক্স), সিপিএসসি স্কোয়াড কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিমান চন্দ্র কর্মকার ও বিএনসিপিসি-২ কোম্পানি কমান্ডার এএসপি শাহ আলম অংশ নেন।
এর আগে গত ২৫ অক্টোবর র্যাব সদর দপ্তর থেকে ড্রোন এনে পাহাড়ে উড়িয়ে রোহিঙ্গা ডাকাতদের আস্তানায় অভিযান চালিয়েছিল র্যাব।
