ছোট ও বড় পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুনা খান। ‘হালদা’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয় করে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী হিসেবে পাচ্ছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ। ছবি : শেখ সাদী
প্রথম সিনেমায়ই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। খবরটি শোনার পর কেমন অনুভূতি হয়েছিল?
প্রথমেই বলতে চাই, এই পুরস্কার আমার অভিনয় জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। প্রথম সিনেমাতেই এই পুরস্কার পাওয়া যে কারও জন্য সৌভাগ্যের। আমি ভীষণ আনন্দিত। তৌকীর আহমেদের কাছে কৃতজ্ঞ, তিনি ‘হালদা’ সিনেমার জুঁই চরিত্রটিতে অভিনয়ের সুযোগ দিয়েছিলেন। যখন খবরটি শুনলাম তখন ট্রেড মিলে হাঁটছিলাম। অভিনেতা জাহিদ হাসান আমাকে ফোন করে খবরটি জানান। আমি কী করব, কী বলব বুঝে উঠতে পারছিলাম না। বাসায় ফিরেই মাকে সালাম করে তাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদেছিলাম। মা বুঝতে পারছিলেন না আমি কাঁদছি কেন। পুরস্কার পাওয়ার কথা শুনে তিনিও কেঁদে ফেলেন। আমার স্বামী তখন অফিসে ছিলেন। তিনি ফোনে আমার কান্নার শব্দ পেয়ে খুব ঘাবড়ে যান। পরে কান্নার কারণ জানতে পেরে খুব খুশি হন। মোট কথা আমার পরিবারে খুশির বন্যা বয়ে যাচ্ছে। কারণ পুরস্কারের আশা খুব একটা ছিল না। ‘হালদা’ ছাড়াও ‘ছিটকিনি’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে আমার নাম জমা দেওয়া হয়েছিল। এই দুটি বিভাগেই প্রতিযোগিতা ছিল খুবই বেশি। ‘ছিটকিনি’র সঙ্গে প্রতিযোগী ছিলেন তিশা (হালদা) ও জয়া আহসান (খাঁচা)।
সুবর্ণা মুস্তাফার সঙ্গে যৌথভাবে পুরস্কার পেলেন...
আমার আনন্দ দ্বিগুণ। সুবর্ণা এমন একজন অভিনেত্রী যাকে জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই অনুসরণ করে আসছি। আমার পুরো পরিবার তার ভক্ত। তিনি ‘গহিন বালুচর’ সিনেমার জন্য পুরস্কারটি পাচ্ছেন। আমিও সেই সিনেমায় অভিনয় করেছি। তাই আমি জানতাম তিনি কেমন অভিনয় করেছেন। এজন্যই পুরস্কারের আশা প্রবল ছিল না। পুরস্কার ঘোষণার পরদিনই উত্তরায় আমার শ্যুটিং ছিল। আমি শ্যুটিং শেষে তার বাসায় গিয়েছিলাম তাকে সালাম করতে। তিনিও আমার পুরস্কারপ্রাপ্তিতে খুব খুশি। তার সঙ্গে একই পুরস্কার ভাগাভাগি করে নিতে আমি সম্মানিত বোধ করছি।
পুরস্কারপ্রাপ্তিতে সহকর্মীরা কতটা খুশি?
আসলে আমরা সবাই একটি পরিবার। একজন কোনো কিছু অর্জন করলে অন্যজন খুশি হন। এই যেমন শবনম ফারিয়া ‘দেবী’ সিনেমার জন্য পাশর্^ অভিনেত্রী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তিনি পুরস্কার পাননি, কিন্তু আমি পেয়েছি বলে খুব খুশি হয়েছেন। জয়া আহসান, বিপাশা হায়াত, সাদিয়া ইসলাম মৌসহ অনেকেই ফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
এখন ব্যস্ততা কী নিয়ে?
বেশ কিছু ধারাবাহিক নাটক করছি। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজের পরিচালনায় এনটিভির ‘ফ্যামিলি ক্রাইসিস’ ধারাবাহিকটির জন্য বেশ ভালো দর্শক সাড়া পাচ্ছি। আরটিভিতে চলছে ইমরাউল রাফাতের ‘বিষয়টি পারিবারিক’। দীপ্ত টিভির নতুন একটি ধারাবাহিক শুরু করেছি। গোলাম সোহরাব দোদুলের এই ধারাবাহিকটির নাম ‘শিউলিমালা’। শিগগিরই প্রচার শুরু হবে। আর চলছে আবু হায়াত মাহমুদের ‘প্রিয় প্রতিবেশী’ ও ‘বনলতা’ ধারাবাহিক দুটি। আরও রয়েছে মেহেদি হাসান হৃদয়ের নতুন ধারাবাহিক ‘ইডিয়ট বক্স’। সবগুলো ধারাবাহিকে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছি।
