বেশিরভাগই দায় দিচ্ছেন তূর্ণার চালককে

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:২০ এএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মন্দবাগ স্টেশন এলাকায় উদয়ন এক্সপ্রেসে বগিতে ধাক্কার ঘটনায় প্রাথমিকভাবে তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেস ট্রেনের চালকসহ রেলওয়ের তিন কর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। কারণ উদ্ঘাটনে গঠিত হয়েছে একাধিক কমিটি। ঘটনাস্থলে গিয়ে রেলপথমন্ত্রী, সচিব, রেলওয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও স্থানীয় মন্দবাগ রেলস্টেশনের মাস্টার সাংবাদিকদের সামনে দুর্ঘটনার সাম্ভব্য কারণ নিয়ে আলাদা আলাদা মন্তব্য করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ এর জন্য তূর্ণা নিশীথার চালককে দায়ী করছেন। কেউ দায়টা প্রকৃতির ওপরও দিতে চাচ্ছেন। আবার তাদেরই কেউ কেউ তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়া মন্তব্য করতে চাননি।

গত সোমবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে শতাধিক যাত্রী। ওই রাতে মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনের ক্রসিংয়ে চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেসকে ঢাকাগামী আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথা ধাক্কা দিলে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহত সবাই উদয়ন এক্সপ্রেসের যাত্রী বলে জানা গেছে। আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, সিলেট ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পরপরই মন্দবাগ রেলস্টেশনের মাস্টার জাকির হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, তূর্ণা নিশীথার চালক সিগন্যাল অমান্য করার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, আউটার ও হোম সিগন্যালে লালবাতি (সতর্ক সংকেত) দেওয়া ছিল। কিন্তু তূর্ণা নিশীথার চালক সিগন্যাল অমান্য করে ঢzকে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, ওই সিগন্যালে সিলেট থেকে ছেড়ে আসা উদয়ন এক্সপ্রেস প্রধান লেন থেকে ১ নম্বর লাইনে যেতে শুরু করে। ট্রেনটির ছয়টি বগি ১ নম্বর লাইনে উঠতে পেরেছিল। অন্য বগিগুলো প্রধান লেনে থাকা অবস্থায় তূর্ণা নিশীথার একাধিক বগি ওই ট্রেনের কয়েকটি বগির ওপর উঠে যায়। এতে উদয়নের তিনটি বগি দুমড়েমুচড়ে যায়।

এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান বলেছেন, ঘন কুয়াশার কারণে লালবাতির সিগন্যাল আগেভাগে দেখতে না পাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও অনুসন্ধান করে প্রাথমিকভাবে ঘন কুয়াশার কারণেই চালক সিগন্যাল দেখতে পাননি বলে জানতে পেরেছেন তিনি। তিনি সাংবাদিকদের জানান, তূর্ণা নিশীথার চালক তাহের উদ্দিন রেলওয়ের কর্মকর্তাদের কাছে সিগন্যাল দেখতে না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

শামছুজ্জামান বলেন, ‘তূর্ণা নিশীথা ট্রেনটি ৬০-৬৫ কিলোমিটার গতিতে চলছিল। ঘন কুয়াশার কারণে চালক লাল সংকেত দেখতে পাননি। তূর্ণা নিশীথার চালক যখন সংকেত দেখতে পান, তখন ইর্মাজেন্সি ব্রেক করেন। ট্রেনের গতিবেগ ২০ কিলোমিটারে নেমে এলেও পুরো গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি। আমরা স্পিড রেকর্ডারও পরীক্ষা করে দেখেছি। ঢাকা থেকে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার পরও ঘন কুয়াশা দেখেছি আমি। তাই আমরা মনে করি, ঘন কুয়াশার কারণেই মূলত দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।’

এরপর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন সাংবাদিকদের বলেন, তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের লোকোমোটিভ মাস্টার সিগন্যাল ভঙ্গ করেছে। আমরা বিস্তারিত জানার জন্য জেলা প্রশাসন ও রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এখানে উদয়ন এক্সপ্রেসের কোনো ত্রুটি দেখছি না।

পরে রেলের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মিয়া জাহানও বলেন, তূর্ণা নিশীথার চালকের অবহেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি আমরা।

আর রেল সচিব মোফাজ্জেল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুটি ও জেলা প্রশাসন থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার ব্যাপারে একটি ট্রেনের সিগন্যাল অমান্য করার যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের আগে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা শরিফুল আলম মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের লোকোমাস্টার (এলএম) তাহের উদ্দিন, সহকারী লোকোমাস্টার (এএলএম) অপু দে এবং ওয়ার্কিং গার্ড আবদুর রহমানকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। রেলওয়ের আরেক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানিয়েছেন, তাহের উদ্দিন, অপু দে ও আবদুর রহমান পলাকত। তাদের আটক করা গেলেই প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত