বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) হেলথ কেয়ার সেন্টারের অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে লং মার্চ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা সেন্টারের নানান অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে এবং সুন্দর ও মানবিক ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বুধবার সকালে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। বেলা সাড়ে ১১ টায় কৃষি অনুষদের করিডর ধরে সকল অনুষদের মধ্য দিয়ে হেলথ কেয়ার অভিমুখে লং মার্চ শুরু করেন তারা।
এদিকে, মালয়েশিয়ার নাগরিক ও বাকৃবির শিক্ষার্থী হয়রানির মৃত্যুতে দায়িত্বরত চিকিৎসকের অবহেলা, হলের প্রভোস্ট ও হাউস টিউটরের গাফিলতি এবং ভেটেরিনারি অনুষদের ডিনের অপ্রশাসনিক আচরণে তাদের পদত্যাগের লিখিত আশ্বাসের দাবিতে বুধবারে তৃতীয় দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ফিশারিজ অনুষদে ক্লাস-পরীক্ষা নেওয়ার কথা শোনা গেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ফিশারিজ অনুষদের ডিনের সঙ্গে কথা বলে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন। এতে ডিন ড. গিয়াস উদ্দিন আহমদ শিক্ষার্থীদের অনুরোধ রাখেন।
লং মার্চ শেষে হেলথ কেয়ার সেন্টারের সামনে এক সমাবেশে শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে হেলথ কেয়ারের ওষুধ কারচুপি, ওষুধ বাইরে বিক্রি করা, পুরাতন অকেজো এক্স রে মেশিন, প্রয়োজনের তুলনায় কম টেকনিশিয়ান থাকাসহ সেন্টারের নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কথা জানান। এ সময় তারা বারবার অভিযুক্ত চিকিৎসক মো. সাদিকুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি করেন।
এ বিষয়ে চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. ফয়েজ আহমেদ হেলথ কেয়ার সেন্টারের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে বলেন, গঠিত তদন্ত কমিটি আমাকে চিঠি দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ডা. মো. সাদিকুল ইসলামের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে গত সোমবার রাতে শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবি দায়িত্বরত চিকিৎসক, প্রভোস্ট, হাউস টিউটর ও ডিনের পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। শিক্ষার্থীরা আজকের লং মার্চ থেকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য ১৪ নভেম্বর দুপুর ১২ টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে। এছাড়াও বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে শোকসভা ও চতুর্থ দিনের মতো ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ছাত্র বলেন, আন্দোলনে আসার কারণে তাদের নানান ভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হেনস্তা করা হচ্ছে।
