রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনা এস-৪০০ কেনার প্রক্রিয়া থেকে বের হয়ে আসতে চাপাচাপি করলেও আঙ্কারার কাছ থেকে কোনো প্রতিশ্রুতি আদায় করতে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ওয়াশিংটনে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি গেরিলাদের ওপর তুর্কি অভিযান নিয়ে বিরোধেরও কোনো মীমাংসা হয়নি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তুরস্কের রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাপনা ক্রয় নিয়েও ওয়াশিংটন শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে। বুধবারের বৈঠকের পর ট্রাম্প এস-৪০০ ক্রয়কে তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতির ক্ষেত্রে ‘গুরুতর প্রতিবন্ধকতা’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, এস-৪০০ এর মতো সংবেদনশীল রুশ সামরিক সরঞ্জাম ক্রয় তুরস্কের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে এ নিয়ে কথা বলছি। আমরা আজ এটি নিয়ে কথা বলেছি, সামনেও বলব, আশা করছি আমরা পরিস্থিতির সমাধান করতে পারব।
বিরোধ মীমাংসায় অগ্রগতির লক্ষণ দেখা না গেলেও এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক ‘চমৎকার’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প নিজেকে এরদোয়ানের ‘মহা ভক্ত’ হিসেবে দাবি করার পাশাপাশি তুরস্কের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ‘কার্যকর’ আলোচনা হয়েছে জানালেও সুনির্দিষ্ট কোন কোন ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে তা বলতে পারেননি।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটবিরোধী লড়াইয়ে কুর্দি ওয়াইপিজি গেরিলাদের নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সকে (এসডিএফ) মার্কিন বাহিনী অস্ত্রশস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করেছিল।
ট্রাম্প অক্টোবরে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চল থেকে সৈন্য সরিয়ে নিলে তুরস্ক সেখানে কুর্দিবিরোধী অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়। এ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে আঙ্কারার বিরোধ শুরু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এরদোয়ান বলেন, দুদেশের মধ্যে যেসব বিষয়ে বিরোধ আছে, কেবল আলোচনার মাধ্যমেই সেগুলোর সমাধান সম্ভব।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে রাশিয়ার সঙ্গে তুরস্কের ‘ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক’ নিয়েও পেন্টাগন উদ্বিগ্ন। এস-৪০০ কেনা থেকে বিরত রাখতে ওয়াশিংটন আঙ্কারাকে নিষেধাজ্ঞার জালে বেঁধে ফেলারও হুমকি দিয়েছে। তুরস্ক এ হুমকিকে পাত্তা না দিয়েই জুলাই থেকে এস-৪০০ এর প্রথম চালান গ্রহণ শুরু করেছে।
