আয়কর মেলার প্রথম দিন

করদাতা-সেবাগ্রহীতাদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১১:১৮ পিএম

আয়কর মেলা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনই করদাতা ও সেবাগ্রহীতার উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। এদিন রিটার্ণ দাখিল হয়েছে ৬৩ হাজার ২৭২টি, তাতে রাজস্ব আয় হয়েছে ৩২৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা। সকাল ৯টায় মেলা শুরুর পর থেকে সেবা নিয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৭৫৮ জন, নতুন ই-টিআইএন নিবন্ধন হয়েছে ৪ হাজার ৩৬৬টি। মেলার পরিধি গত বছরের মেলার চেয়ে কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে। মেলায় আয়কর রিটার্ন দাখিল, ই-টিআইএন গ্রহণ, ই-ফাইলিং, ই-পেমেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে। মেলার বিশেষ আকর্ষণ মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা গ্রহণ করে করদাতারা রকেট, নগদ, বিকাশ ও প্রযোজ্য শিওর ক্যাশের মাধ্যমে আয়কর জমা দিতে পারছেন।

রাজধানীর ইস্কাটনের অফিসার্স ক্লাবে শুরু হওয়া এই আয়কর মেলা চলবে সাত দিন। এ বছর দেশের ৮টি বিভাগ, ৫৬টি জেলা, ৫৬টি উপজেলাসহ মোট ১২০টি স্পটে আয়কর মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলার প্রথম দিনটি করদাতা ও সেবাগ্রহীতাদের পদচারণায় মুখর ছিল। বিশেষ করে নারী ও তরুণ করদাতাদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। মেলার প্রথম দিন সারা দেশে করদাতারা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে কর প্রদান ও সেবা গ্রহণ করেছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, করদাতাদের সুবিধার্থে এবারই প্রথমবারের মতো আয়কর মেলার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। ফলে করদাতারা মেলায় না এসে ঘরে বসে নির্বিঘেœ আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন এবং আয়কর মেলা সংক্রান্ত দেশব্যাপী সব আয়োজনের হালনাগাদ তথ্যাদি অবলোকন এবং সম্মানিত করদাতাদের জন্য প্রয়োজনীয় আয়কর রিটার্ন ফরম, চালান, ই-টিআইএন অ্যাপ্লিকেশন ফরম ইত্যাদি ডাউনলোড করার সুযোগ পাচ্ছেন।

এছাড়া করদাতাদের সুবিধার্থে হেল্প ডেস্ক, তথ্যকেন্দ্র ও আয়কর অধিক্ষেত্র সংক্রান্ত বুথ থাকবে। এসব বুথের মাধ্যমে করদাতাদের আয়কর রিটার্ন ফরম পূরণ, চালান ও পে-অর্ডার প্রস্তুতসহ আয়কর আইনবিষয়ক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

মেলায় ৫২টি আয়কর রিটার্ন বুথ, ৫৩টি হেল্প ডেস্ক, ব্যাংক বুথ (সোনালী ব্যাংক ১৩টি, জনতা ব্যাংক ৫টি এবং বেসিক ব্যাংক ৪টি), ই-পেমেন্টের জন্য ৩টি, ই-ফাইলিংয়ের জন্য ২টি বুথ পৃথক রয়েছে। এছাড়া মেলায় আসা সম্মানিত করদাতাদের তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য একটি মেডিকেল বুথ রয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে করদাতাদের সুবিধার জন্য ফটোকপির ব্যবস্থা রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার আয়কর মেলার উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। কর প্রদান নৈতিক দায়িত্ব উল্লেখ করে দেশের সার্বিক কল্যাণে যথাযথ কর সময়মতো দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রী উদাত্ত আহ্বান জানান। পাশাপাশি করদাতাদের সার্বিক সহযোগিতা করতে কর কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও চেয়ারম্যান জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত