উইকেট পড়তে ভুল করেনি বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। তিন সিমার তারা নিতে চেয়েছিল। বাস্তবতার কারণে পারেনি। আর এই যে ভারতের বিপক্ষে দুই দিনেই টেস্টটা বলতে গেলে বড় ব্যবধানে হেরে বসে থাকা তার প্রধান কারণ অনভিজ্ঞতা। দলের কাঠামোগত পরিবর্তন না আনলে ২০ বছরে যেমন বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেট খুব এগোয়নি, সামনেও তেমন এগোবে না। হোলকার ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ভারত প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষে এই উপলব্ধি বাংলাদেশের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১৫০ রান করে শেষ। জবাবে ভারতের এখন ৬ উইকেটে ৪৯৩। তাদের লিড ৩৪৩ রানের। গতকাল ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের পর বাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বললেন, ‘কঠিন পরিস্থিতি। কেউ চাইলে চমৎকার এই সুযোগটা নিতে পারে। দলে ২০ কিংবা ৩০ গড়ের অনেক খেলোয়াড় আছে। মায়াঙ্ক (আগারওয়াল) আজ (গতকাল) যেমন করল আমাদেরও কাউকে তেমন ১০০, ১৫০ কিংবা ২০০ করতে হবে। দ্বিতীয় ইনিংসে আমাদের ব্যাটসম্যানদের সামনে তাই অসাধারণ সুযোগ।’ ওপেনার আগারওয়াল একাই করেছেন ২৪৩।
নিদারুণ ব্যর্থতার পর ডমিঙ্গো বলছেন, ‘এটা খুব অনভিজ্ঞ একটা দল।’ কিন্তু আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দেশের মাটিতে হারের পর এমন বাজে ব্যাটিং-বোলিং শুধু কি অনভিজ্ঞতার কারণে?
‘বাংলাদেশের টেস্ট রেকর্ড তো ভালো না। ১১৫ টেস্টের মোটে ১৩টা জিতেছে। অনেককাল ধরে এটা ঘটে চলেছে। সিরিয়াস ধরনের টেস্ট দল হতে চাইলে, দেশে ও দেশের বাইরে পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে হলে আমাদের দলে কাঠামোগত পরিবর্তন আনতে হবে।’ ডমিঙ্গো জানালেন, ‘আমাকে এটা নিয়ে নির্বাচক ও অধিনায়কের সঙ্গে আলোচনায় বসে পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে হবে।’
ডমিঙ্গো বারবার এই কাঠামো পরিবর্তনের প্রসঙ্গটা টানছিলেন। ‘দুই সিমার নিয়ে খেলা খুব কঠিন। ব্যাট করতে জানা তৃতীয় একজন সিমারকে আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। সাইফউদ্দিন আছে। কিন্তু ইনজুরিতে সে।’ কোচ বলে যাচ্ছিলেন, ‘দলের কাঠামোর দিকে নজর দেওয়া জরুরি। বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে অন্য দলগুলো ভালো উইকেট তৈরি করবে বলে মনে হয়, যেখানে তেমন স্পিন হবে না। ৭ কিংবা ৮ নম্বরে ব্যাট করার জন্য আমাদের একজন সিমার দরকার।’
ডমিঙ্গো পেস বোলারদের দিকে চোখ রাখছেন। দলের উন্নতির জন্য খুব দরকার মানেন। ‘টেস্ট জিততে বোলিং ইউনিট দরকার পড়ে। বাংলাদেশকে দেশের বাইরে টেস্ট জিততে ৬-এর বেশি বোলার লাগবে। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা ভালো করে কারণ দেশে বা বিদেশে যেকোনো কন্ডিশনে ৫ কিংবা ৬ বোলার বেছে নিতে পারে।’ বাংলাদেশে আসার পর থেকে পেস বোলিং কোচ শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট ও ডমিঙ্গো দেশের বাইরে জিততে পেস ইউনিটের কথা বলে যাচ্ছেন।
ব্যাখ্যা দিয়ে ডমিঙ্গো গতকাল আরও জানালেন, ‘স্পিন বোলিং ঘরে আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। কিন্তু এর উন্নতি দরকার। ফাস্ট বোলারদের জন্য খেলায় ব্যবধান গড়ে দেওয়ার মতো পিচ দিতে হবে যেখানে দিনে ১৮-২০ ওভার বল করতে পারে। বাংলাদেশের এখনকার উইকেট আমি মনে করি তাদের সেই কাজে বাধা।’
ডমিঙ্গো ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এও বলছেন, ‘দলের কাঠামো না বদলালে ফলাফল একই থাকবে। নির্বাচকদের সঙ্গে বসে কোন খেলোয়াড়রা দলকে টেনে নিয়ে যেতে পারে তা ঠিক করতে হবে আমাকে। তাতে করে যদি নতুন কিছু মুখ নিয়ে চলতে হয়, কিছুদিন সংগ্রাম করতে হলেও এখন যা ঘটছে তার চেয়ে ভিন্ন কিছু হবে না। আমাদের দলে শ্রদ্ধা করার মতো কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে। তাদের পারফরম্যান্স বাংলাদেশের জন্য মূল্যায়ন করতে হবে কিন্তু দলের স্বার্থে সেরা সিদ্ধান্তও নিতে হবে।’
কথায় কথায় ডমিঙ্গো বলছিলেন, ‘পিচ বুঝতে ভুল করিনি। তিন পেসার খেলানো উচিত ছিল কিন্তু তা আমাদের জন্য কাজে আসত না। ব্যাটিং হালকা হয়ে যেত।’ বিশ্বের এক নম্বর দল ভারতের সঙ্গে নিচের ৯ নম্বর দল বাংলাদেশের এই টেস্টের ব্যর্থতার কারণ নির্ধারণ করতে গিয়ে শেষে কোচ বললেন, ‘গেল ৬/৭ মাসে এটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় টেস্ট। ভারত সম্ভবত গেল তিন মাসে ১০ টেস্ট খেলেছে। আমরা দুই দিনে ছিটকে পড়েছি। দুই দলের অভিজ্ঞতায় বিশাল ফারাক। এ কারণেই পারফরম্যান্সের এমন বেহাল দশা।’
