দুর্নীতি বন্ধ এবং সরকারের ব্যয়ে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা, ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করতে আইনগত ও অডিট ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে অতিমূল্যায়িতভাবে প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মূল্যায়ন কমিটি করা যেতে পারে। বড় ও মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রে ‘রিয়েল টাইম অডিট’-এর ব্যবস্থা করতে হবে।
গতকাল বিশ্বব্যাংক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এমন মতামত জানান। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত আলোচনায় প্রধান অতিথি স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি করার প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, সরকারের অবস্থান হচ্ছে জনগণের করের অর্থ ব্যয়ের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা থাকতে হবে। সেজন্য স্বাধীন অডিট ব্যবস্থা, দুর্নীতি রোধে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, সরকারি হিসাব সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটিকে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
কম্পট্রলার অডিটর জেনারেল (সিএজি) মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, রিয়েল টাইম অডিট বা এক বছরের মধ্যে অডিট শেষ করলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, সরকারি কেনাকাটা ও ব্যয়ে বিশেষ করে বড় এবং মেগা প্রকল্পের ক্ষেত্রে সিএজি ও দুদক যৌথভাবে ঝুঁকি নির্ণয়ে কাজ করতে পারে। কারণ জনসাধারণের মধ্যে ধারণা আছে যে, বড় প্রকল্পের কেনাকাটা ও বারবার ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়। জনসাধারণের এ ধারণা দূর করতে প্রকল্পগুলোর অডিট স্বচ্ছতার সঙ্গে ও দ্রুততম সময়ে শেষ করতে হবে।
বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর ড্যানড্যান চেন বলেন, বাংলাদেশ সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংস্কারের উদ্যোগ নিলেও বাস্তবায়নে গতি কম। বৈশ্বিক সুশাসন সূচকেও বাংলাদেশের গতি কম। যদিও দুর্নীতি, আইনের বাস্তবায়ন, নিয়ন্ত্রণ কাঠামো, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বেড়েছে। কিন্তু সুশীল সমাজের প্রতিনিধির মতামতের গুরুত্ব কমেছে। রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে সুশাসন নিশ্চিত করতে সুশীল সমাজের মতামতের গুরুত্ব রয়েছে।
