শনিবার জলদস্যু ও অস্ত্র কারবারিদের আত্মসমর্পণ

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৩৬ এএম

কক্সবাজারে আবারও আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী শনিবার দ্বিতীয় দফায় জলদস্যুর পাশাপাশি অস্ত্র কারবারিরাও আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে ১০০ জনের মতো দস্যু-কারবারি পুলিশের সেফ হোমে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো দ্রুত সমাধানের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে প্রশাসনে। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তাদের আর্থিক অনুদানও দেবে সরকার। এছাড়া দ্বিতীয় দফায় মাদক কারবারিদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হলেও

দিনক্ষণ ঠিক হয়নি।

এর আগে ২০১৮ সালের অক্টোবরে জেলার মহেশখালীতে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করা ৪৩ জলদস্যু কারামুক্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। তবে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে আত্মসমর্পণ করা ১০২ জন ইয়াবা কারবারি এখনো কারাগারে।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২৩ নভেম্বর সকালে মহেশখালীতে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান হবে। সেদিক বিবেচনা করে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। শতাধিক জলদস্যু ও অস্ত্র কারবারি আত্মসমর্পণ করবে। তবে ২২ নভেম্বর তাদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আত্মসমর্পণকারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সব ধরনের সহায়তা দেবে প্রশাসন। এর আগে যারা আত্মসমর্পণ করেছিল তারা কারাগার থেকে বের হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। তবে তাদের নজরদারি করা হচ্ছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, মাদক কারবারিদেরও দ্বিতীয় দফায় আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান হবে। তবে এর দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সমাজ ও দেশ থেকে মাদকের অপব্যবহার ও সন্ত্রাস দূর করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে।

জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের জন্য মহেশখালীর কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রস্তুত করা হচ্ছে। গতকাল সকাল থেকে সেখানে মঞ্চ তৈরি করার কাজ শুরু হয়েছে। গত ১৮ নভেম্বর পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করেন। আগামী শনিবার বেলা ১১টার দিকে এ অনুষ্ঠান শুরু হবে। অতিথিদের নিরাপত্তা, অভ্যর্থনা, প্রটোকল, জলদস্যু ও অস্ত্র কারবারিদের ঘটনাস্থলে আনা, তাদের অস্ত্র জমা করা, প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থানÑ এসব বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আগামী শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি এবং চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি কক্সবাজারে আসবেন। পরের দিন সকালে তারা মহেশখালী যাবেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সাংসদ ও জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তাব্যক্তিরাও উপস্থিত থাকবেন।

জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আত্মসমর্পণের জন্য ১০০ জনের মতো জলদস্যু ও অস্ত্র কারবারির তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে এ সংখ্যা কিছুটা বাড়তে বা কমতে পারে। কক্সবাজার পুলিশ লাইনস মাঠের সেফ হোমে তারা অবস্থান করছে। কার বিরুদ্ধে কয়টি মামলা, কবে অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে, পরিবারের সদস্যরা কী করছে তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আত্মসমর্পণের পর তাদের অন্তত পাঁচ থেকে ছয় মাস কারাগারে থাকতে হবে। পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন আসার পর তারা আদালতের নির্দেশে মুক্তি পাবে। অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত মহেশখালীতে খুন, রাহাজানি, দস্যুতা, অপহরণসহ সব ধরনের অপরাধের সঙ্গে তারা জড়িত। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অস্ত্র কারবারিও। আত্মসমর্পণের দিন তারা আগ্নেয়াস্ত্রও জমা দেবে।’

জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, যারা আত্মসমর্পণ করবে তাদের বিরুদ্ধে থানায় অস্ত্র মামলা করা হবে। তবে দ্রুত তাদের মুক্তির জন্য মামলা পরিচালনায় সরকার সহযোগিতা করবে। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে মহেশখালীর কালারমারছড়ার আলোচিত জিয়া বাহিনীর প্রধান জিয়াউর রহমান জিয়া, তার বাহিনীর মানিক, আয়াতুল্লাহ, আবদুস শুকুর, সিরিপ মিয়া, একরাম ও বশিরসহ অন্তত ১৫; চেয়ারম্যান তারেক শরীফের অনুসারী হিসেবে পরিচিত কালা জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম, সদস্য আবুল, সোনা মিয়া, জমির উদ্দীনসহ প্রায় ১৫ জন; মহেশখালীর নুনাছড়ির মাহমুদুল্লাহ বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ আলী, সেকেন্ড-ইন-কমান্ড বদাইয়াসহ ১৫ জন; ঝাপুয়ার সিরাজ বাহিনীর প্রধান সিরাজ-উদ-দৌলাহ, নলবিলার মুজিব বাহিনীর প্রধান মজিবুর রহমান প্রকাশ শেখ মুজিব এবং কুতুবদিয়ার লেমশিখালীর কালু বাহিনীর প্রধান কালু প্রকাশ গুরা কালুসহ তার বাহিনীর ১৫-২০ জন জলদস্যু ও অস্ত্রবাজ রয়েছে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত