নওশাবার মামলার কার্যক্রম স্থগিত করল হাইকোর্ট

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০৩:১৪ এএম

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর গুজব ছড়ানোর অভিযোগে অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদের বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলার কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। গতকাল বুধবার বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাইকোর্ট বেঞ্চ নওশাবার করা আবেদনের ওপর শুনানি শেষে রুলসহ এ স্থগিতাদেশ দেয়।

রুলে কেন এই মামলা বাতিল করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়েছে। চার সপ্তাহের মধ্যে সরকারের সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে নওশাবার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়–য়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমিনুর রহমান চৌধুরী টিকু।

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়–য়া গণমাধ্যমকে জানান, নওশাবার বিরুদ্ধে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের এই মামলাটি ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট দায়ের করা হয়। আর ওই বছর ৮ অক্টোবর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন বিলুপ্ত করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কার্যকর হয়। তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৬১ ধারা অনুযায়ী তথ্যপ্রযুক্তি আইনের কোনো মামলা বিচারাধীন থাকলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বিচারকাজ চলমান থাকবে। কিন্তু এ মামলায় বিচারিক আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয় চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল এবং অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় গত ৩ সেপ্টেম্বর। তাই এই মামলা চলার মতো কোনো আইনগত এখতিয়ার নেই। আমাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট রুলসহ স্থগিতাদেশ দিয়েছে।’ 

গত বছর জুলাইয়ের শেষ দিকে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত হওয়ার পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ৪ আগস্ট আন্দোলনের মধ্যে ঝিগাতলায় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় ফেইসবুক লাইভে এসে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর সংবাদ প্রচার করেন নওশাবা। এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। তথ্যপ্রযুক্তির আইনের মামলায় তাকে দুই দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

গত ২১ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান নওশাবা। তদন্ত শেষে গত ১২ মে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট নওশাবার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। এতে অভিযোগ করা হয়, নওশাবা ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করতে এবং সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে মিথ্যা ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করেছেন। মামলাটি অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে ছিল। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত