দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি : মওদুদ

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ০২:৩৭ এএম

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দেশে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয়

কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এ আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমার চোখের সামনে এখনো ১৯৭৪ সালের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনীতির চিত্র ভেসে উঠছে। ’৭৪ সালে দেশে যে অস্থিরতা বিরাজ করছিল, আজকে সে অবস্থা বিরাজ করছে। দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি।’

বিএনপির উদ্যোগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ৫৫তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য রাখছিলেন মওদুদ আহমদ। বর্তমান সরকার অস্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিরুদ্ধ মতকে দমন করতে গিয়ে দেশের জনগণের সুখ-শান্তি নষ্ট করে দিয়েছে। পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও সরকারের ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে।

এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনার কথা জানিয়েছিলেন। সম্প্রতি পেঁয়াজ, লবণ, সবজি এবং চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন তারা।

মওদুদ বলেন, ২০১৯ সালটা বর্তমান সরকারের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বছর। জাতির জন্য একটি দুর্ভাগ্যজনক বছর। একটার পর একটা ঘটনা ঘটেই চলেছে। নুসরাত হত্যা থেকে শুরু হয়ে ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি; এরপর যুবলীগের ক্যাসিনো, তারপর পেঁয়াজ ও লবণের সমস্যা। তিনি বলেন, যে সরকার পণ্যের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারে না, সেই সরকারের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার নেই। সরকারকে অবিলম্বে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। যাতে করে এ দেশের মানুষ নির্ভয়ে-নির্বিঘেœ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। তারা তাদের পছন্দমতো প্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। এটা যদি আপনারা নিজে থেকে না করেন, তাহলে দেশের মানুষ আদায় করে নেবে।

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে সাবেক এ আইনমন্ত্রী বলেন, জামিনে যদি খালেদা জিয়ার মুক্তি না হয় তাহলে একমাত্র বিকল্প হচ্ছে রাজপথ। দেশের মানুষ প্রস্তুত ও তৈরি হয়ে আছে। তারা আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। দেখছে, আমরা কী ধরনের কর্মসূচি দিই।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানীসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত