স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে। মহেশখালী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ কক্সবাজার পর্যটন উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন সরকার। প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সুন্দরবন দস্যু মুক্ত হয়েছে। এরপর সারা বাংলাদেশে সন্ত্রাস, দস্যু মুক্ত অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ প্রাঙ্গণে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা আত্মসমর্পণ করেননি তারা এখনও সময় আছে দ্রুত আত্মসমর্পণ করুন। না হলে পরিণতি ভালো হবে না। কারণ, প্রত্যেকের নামপরিচয় আমাদের হাতে চলে এসেছে। একই সঙ্গে তাদের সহায়তাকারী প্রভাবশালী গডফাদারদের তালিকাও হচ্ছে। কেউ রেহাই পাবেন না। যারা আজ আত্মসমর্পণ করেছেন তাদের আমরা সাধুবাদ জানাচ্ছি। আপনাদের কর্মসংস্থান করার জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে।’
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘যারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আত্মসমর্পণ করতে এসেছেন তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হবে। আর যারা এখনও আত্মসমর্পণ করেননি তারা সময় থাকতে আইনের আওতায় চলে আসুন। না হয় পরিণতি ভাল হবে না।
তিনি বলেন, পুলিশ জনগণের বন্ধু। পুলিশ সব সময় জনগণের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে। আর কেউ যদি পুলিশকে কোনো তথ্য দিতে যান, তাহলে ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে সাহায্য নিতে পারেন।’
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে ১২টি বাহিনীর ৯৬ জন জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগর আত্মসমর্পণ করছেন। একই সাথে জলদস্যুদের কাছে মজুদ থাকা ১৩টি রাইফেল, ১টি দেশীয় তৈরি দুই নলা বন্দুক, ১৪১টি এক নলা বন্দুক এবং ২৮টি রাইফেলের গুলি ও ২৫৫টি বন্দুকের কার্তুজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন প্রকার অস্ত্র তৈরির সরঞ্জমাদি হস্তান্তর করা হয়।
আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি গোলাম ফারুক, চকরিয়া-পেকুয়া আসনের সাংসদ জাফর আলম, মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক প্রমুখ।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন জানান, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে আয়ুব বাহিনীর প্রধান আয়ুব, আব্দুল করিম বদিয়া বাহিনী, মহেশখালীর কালারমারছড়ার আলোচিত জিয়া বাহিনীর প্রধান জিয়াউর রহমান জিয়া, তার বাহিনীর মানিক, গুরা কালু বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ কালু, হামিদ বাহিনীর প্রধান আব্দুল হামিদ, কালা জাহাঙ্গীর বাহিনী, করিম বাহিনীর প্রধান মাহমুদুল করিম, সিরাজ বাহিনীর প্রধান সিরাজ দৌলা চৌধুরী, স্বপন বাহিনীর প্রধান মান্নান দে স্বপন, মিন্টু বাহিনীর প্রধান আব্দুল্লাহ মিন্টু, শিকদার বাহিনী, সোনা মিয়া, জমির উদ্দীন, মুজিব বাহিনীর প্রধান মজিবুর রহমান প্রকাশ এবং কুতুবদিয়ার লেমশিখালীর কালু বাহিনীর প্রধান কালু প্রকাশ গুরা কালুসহ ৯৬জন জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগর।
