জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা

খালেদার জামিন নিয়ে আপিল শুনানি বৃহস্পতিবার

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১৯, ০১:০৪ এএম

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাত বছরের কারাদ-প্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ বাতিল ও জামিন চেয়ে আপিল বিভাগে করা আবেদনের ওপর আগামী বৃহস্পতিবার শুনানি হবে। গতকাল সোমবার আপিল বিভাগের কার্যতালিকায়

এটি শুনানির জন্য ছিল। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চ এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করে।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রমুখ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান। জয়নুল আবেদীন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আপিল বিভাগের সব বিচারপতিকে নিয়ে বৃহস্পতিবার আবেদনের ওপর শুনবেন বলে আদালত বলেছেন। এটি সর্বোচ্চ আদালত। বাংলাদেশে যদি ন্যায়বিচার থাকে তাহলে আশা করি বৃহস্পতিবার বেগম খালেদা জিয়া জামিন পাবেন। তিনি ভীষণ অসুস্থ। তার এই মুহূর্তে চিকিৎসা প্রয়োজন।’

১৪ নভেম্বর আপিল বিভাগে বিএনপির চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা এ আবেদন করেন। আবেদনে হাইকোর্টের ওই আদেশ বাতিল চেয়ে খালেদা জিয়ার জামিন চাওয়া হয়। এরপর খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে গণমাধ্যমে যেসব প্রতিবেদন এসেছে সেসব যুক্ত করে গত রবিবার সম্পূরক আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় গত ৩১ জুলাই খালেদা জিয়ার জামিনের আবেদন খারিজের আদেশ দেয় হাইকোর্ট। এর আগে ৩০ এপ্রিল মামলায় খালেদার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্ট। গত বছরের ২৯ অক্টোবর ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায়ে খালেদা জিয়াসহ চার আসামিকে সাত বছর করে কারাদ- দেয়।

এর আগে গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিচারিক আদালতে খালেদা জিয়ার পাঁচ বছর কারাদ- হলে তাকে রাখা হয় নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে। এই মামলায় হাইকোর্টে আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত বছরের ৩০ অক্টোবর তার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। মামলায় সাজা থেকে খালাস ও জামিন চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে করা আবেদন শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। খালেদা জিয়া বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন।

দুই মামলায় জামিনের মেয়াদ বাড়ল ১ বছর : মানহানি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের দুই মামলায় খালেদা জিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ আরেক বছর বেড়েছে। গতকাল বিচারপতি মুহাম্মদ আবদুল হাফিজ ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। খালেদা জিয়ার আইনজীবী প্যানেলের সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানান। এর আগে গত ১৮ জুন হাইকোর্ট এক আদেশে এ দুই মামলায় খালেদা জিয়াকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিল।

২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগকে নিয়ে কটূক্তি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে বিএনপির চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২১ অক্টোবর জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। আর ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পরের বছর ২৫ জানুয়ারি আরেকটি মামলা করেন এ বি সিদ্দিকী। দুটি মামলাতেই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গত বছরের ৩০ জুন বিচারিক আদালতে প্রতিবেদন দেয় শাহবাগ থানা পুলিশ। প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ২০ মার্চ এক আদেশে খালেদাকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করে আদালত। এরপর হাইকোর্ট থেকে জামিন নেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত