পাটগ্রামের শ্রীরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দু’গ্রুপের সংঘর্ষে পুলিশসহ ২০ জন আহত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে শ্রীরামপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৫০ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ৩ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতরা হলেনÑ রিশাদ (২০), শহিদুল ইসলাম (৩০), রিয়াদ (১৮), রায়হান (৩৫), কমিজ (৪০), রুবেল হোসেন (৩০), রুস্তম আলী (২৫), আব্দুল জলিল (৩৫), উজ্জ্বল (৩৫), জবেদ আলী (৩৫), কাদের (৩২), হাবিবুল ইসলাম (২৫), তারেক (৩০), একরামুল হক (৩০), জহুরুল হক (৪০) ও ভুট্টু মিয়া (৩১)। এ সময় পাটগ্রাম থানার এসআই আশরাফুল ইসলাম, কনস্টেবল দিবস কুমার আহত হন। তাদের মধ্যে চারজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, জেলা আওয়ামী লীগের ৯ ডিসেম্বরের সম্মেলনকে সামনে রেখে প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়নে সম্মেলন চলছে। সোমবার বিকেলে শ্রীরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সম্মেলন আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে জেলা-উপজেলার নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তাই নেতাদের পৌঁছার আগেই জায়গা দখল নিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাশেম এবং নতুন কমিটিতে সভাপতি পদপ্রত্যাশী রফিকুল
ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় দু’গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পরে পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সংঘর্ষের পর ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে জানিয়ে তারা বলেন, হাশেম স্থানীয় সাংসদ মোতাহার হোসেন এবং রফিকুল পাটগ্রাম উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুলের অনুসারী।
রুহুল আমিন বলেন, ‘সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্থানীয় সাংসদ মোতাহার হোসেনসহ আমাদের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সংঘর্ষের পর কমিটি গঠন স্থগিত করা হয়েছে।’
পাটগ্রাম থানার ওসি সুমন কুমার মোহন্ত জানান, সম্মেলনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৫০ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ৩ রাউন্ড টিয়াল শেল নিক্ষেপ করে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
